বৃহস্পতিবার, ২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অ্যালগরিদম বলছে: ২০২৬ বিশ্বকাপ জিতবে নেদারল্যান্ডস, ব্রাজিল রাউন্ড অব ৩২-এ বিদায়

আন্তর্জাতিক ফুটবলে অপ্রত্যাশিত ফলাবলীর শেষ নেই, আর এবার সেই অপ্রত্যাশিত ভবিষ্যদ্বাণী আগেভাগেই দেখিয়ে দিয়েছে একটি গাণিতিক মডেল।

জার্মান অর্থনীতিবিদ ও বিনিয়োগ বিশ্লেষক ইওয়াখিম ক্লেমেন্টের তৈরি একটি বিশেষ অ্যালগরিদম ২০২৬ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নেদারল্যান্ডসকে চিহ্নিত করেছে। সবচেয়ে বড় চমক হচ্ছে—এই মডেলে প্রচলিত ফেভারিটদের মধ্যে থাকা আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, স্পেন বা ফ্রান্সকে চ্যাম্পিয়ন দেখানো হয়নি।

ক্লেমেন্টের মডেল শুধু মাঠের পারফরম্যান্সেই ভর করে না; ওই অ্যালগরিদমে অর্থনীতি, জনসংখ্যা, আবহাওয়া, আয়-স্তর এবং আয়োজক দেশের পরিবেশগত সুবিধাসহ নানা বাহ্যিক ও সামাজিক উপাদানও যুক্ত করা হয়েছে। ক্লেমেন্টের দাবি, এসব তথ্য মিলিয়ে মডেল প্রায় ৫৫ শতাংশ নির্ভулভাবে কোনো দলের বিশ্বকাপ সাফল্য অনুমান করতে পারে।

ক্লেমেন্টের পূর্বাভাস নতুন নয়—তার মডেল ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন সঠিকভাবে চিহ্নিত করেছিল বলে তিনি আগে থেকেই পরিচিত। সেই জয়েন্ট্র্যাক রেকর্ডের ওপর ভর করে তার এই নতুন ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে ইতোমধ্যেই ফুটবল বিশ্বে তর্ক শুরু হয়েছে।

মডেল অনুযায়ী নেদারল্যান্ডসের পথ এইবার সহজ হবে না। গ্রুপ পর্যায়ে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে জাপান, সুইডেন ও তিউনিসিয়া। কিন্তু সবচেয়ে আলোচিত অংশটি এসেছে নকআউট পর্বের পূর্বাভাস থেকে—ঐ পূর্বাভাস বলছে, রাউন্ড অব ৩২-তেই জাপান ব্রাজিলকে বিদায় করবে।

সবশেষে ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখানো হয়েছে পর্তুগালকে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই ফাইনালে জয়লাভ করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে নেবে ‘‘ডাচরা’’—এমনটাই বলছে ক্লেমেন্টের অ্যালগরিদম।

ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেয় যে নেদারল্যান্ডস ১৯৭৪, ১৯৭৮ ও ২০১০ সালে ফাইনালে উঠলেও শিরোপা জিততে পারেনি। এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সম্ভাবনা যে আছে—তাও ক্লেমেন্টের গাণিতিক হিসাব থেকেই উঠে এসেছে।

তবে বিশ্লেষকরা এবং ভক্তদের একাংশ মনে করায়, ফুটবল নিজের নিয়মে খেলে—জয়-পরাজয় নির্ভর করে ম্যাচের দিনে কী ঘটে তার উপর। তাই অ্যালগরিদমের ভবিষ্যদ্বাণী যতই চমকপ্রদ হোক, মাঠের অনিশ্চয়তাকে উপেক্ষা করা যাবে না। এই ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে আলোচনা চলতেই থাকবে, আর বিশ্বকাপের আসল উত্তর মিলবে তখনই যখন বলটা শেষ পর্যন্ত গোলপোস্টের মধ্যে যাবে।