ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বড় খবর — ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ডিজিটালি সম্প্রচার করার অধিকার অর্জন করেছে দেশের শীর্ষ ডিজিটাল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক। তাদের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম টফির মাধ্যমে দেশজুড়ে দর্শকরা কোনো বাধা ছাড়াই সরাসরি সব ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন।
বুধবার (৩ জুন) বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্যে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ইভেন্টকে আরও সহজলভ্য করা এবং ডিজিটাল দর্শকদের উন্নত অভিজ্ঞতা দেয়াই এই স্বত্ব অর্জনের মূল উদ্দেশ্য।
তাইমুর রহমান জানান, ডিজিটাল সম্প্রচারস্বত্ব পাওয়ার ফলে দেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী যেকোনো সময় ও যেকোনো স্থান থেকে উচ্চমানের স্ট্রিমিংয়ে ম্যাচ দেখতে পারবেন। বাংলালিংকের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ও টফির উন্নত প্রযুক্তি দর্শকদের নিরবচ্ছিন্ন সম্প্রচার নিশ্চিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এই টুর্নামেন্ট ইতিহাসে প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করছে এবং নতুন ফরম্যাটে রেকর্ড ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে, যা খেলা আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও আকর্ষণীয় করে তুলবে।
টেলিভিশন সম্প্রচারের ব্যাপারটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আন্তর্জাতিক বিপণন সংস্থাগুলো প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশে স্যাটেলাইট ও ডিজিটাল সম্প্রচারের প্যাকেজটির মূল্য নির্ধারণ করে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১৫১ কোটি টাকার কাছাকাছি। কর, ভ্যাট ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ যোগ করলে মোট খরচ প্রায় ২০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। এই বিশাল ব্যয়ের কারণে এখনও পর্যন্ত বিটিভি কিংবা কোনো একক বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল একা হয়ে সম্প্রচারস্বত্ত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেনি।
তবে টেলিভিশনে বিশ্বকাপ দেখানোর সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি টিভি চ্যানেল যৌথভাবে কনসোর্টিয়াম গঠন করে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। আলোচনা সফল হলে শিগগিরই টিভি পর্দায় বিশ্বকাপ দেখানোর খবরও পাওয়া যেতে পারে।
যদি টিভি সম্প্রচার নিশ্চিত না হয়, তবুও বাংলালিংকের টফির মাধ্যমে ডিজিটাল দর্শকরা বিশ্বকাপ উপভোগের সুযোগ পাবে। অনুসরণ করুন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও বিস্তারিত ও চূড়ান্ত ঘোষণার জন্য।





