শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সায়নী চক্রবর্তীর রহস্যজনক মৃত্যু: সম্পর্কের টানাপোড়েন নাকি মানসিক অবসাদ?

পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার মগরার বাসিন্দা ও জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সায়নী চক্রবর্তী (২২) নিজ বাসভবনে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। জেলা পুলিশ জানিয়েছেন, ঘটনাটি ঘটে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে; মগরা থানার কর্মকর্তা ঘটনাস্থল থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে পাঠায়। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সেখানে সম্পন্ন করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারনা অনুযায়ী এটি আত্মহত্যার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত রিপোর্টের ফলাফলসহ সকল দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হুগলি গ্রামীণ পুলিশ জানায়, কোনো সুইসাইড নোট উদ্ধার করা যায়নি।

পরিবার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি; তবে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শোকগ্রস্ত পরিবারটি শিগগিরই একটি আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট দাখিল করবে বলেই জানিয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, সায়নীর ব্যক্তিজীবনে গত কিছুদিনে সম্পর্কগত টানাপোড়েন দেখা দিত। পুলিশি সর্বসমীক্ষায় জানা যায়, তিনি ত্রিবেণীর এক যুবকের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক রেখেছিলেন এবং সম্প্রতি ওই সম্পর্কে অশান্তি দেখা দিয়েছিল। একই সঙ্গে তদন্তকারীরা সায়নীর মানসিক অবসাদিক অবস্থাও খতিয়ে দেখছেন—কী কারণে তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন এবং তা কি শেষ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল, সে সব জিজ্ঞাসা তদন্তের কড়ায় পরীক্ষা করা হবে।

সায়নী কেবল একজন আইনের পড়ুয়া ছিলেন না; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ফলোয়ার সংখ্যা ছিল তিন লাখেরও বেশি। মা মলি চক্রবর্তীর সঙ্গে মিলে তৈরী করা দৈনন্দিন জীবনের সোজাসাপ্টা ভিডিওগুলি দর্শকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় ছিল। তার ভিডিওর মূল আকর্ষণ ছিল সহজ-সরল অভিনয়, পোষ্যপ্রেম ও অফবিট মুহূর্ত—বিশেষ করে ‘সুন্দরী’ নামের পোষ্য গরু সম্পর্কে তার মিষ্টি মুহূর্তগুলো ভক্তদের খুবই পছন্দের ছিল। কর্তৃপক্ষ জানায়, মৃত্যুর মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে পর্যন্তও সায়নী সুন্দরীকে নিয়েই একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন।

ইনস্টাগ্রামে তাঁর শেষ পোস্টটিও ছিল একটি ব্রাইডাল সাজে করা লিপ-সিঙ্ক ভিডিও—যাতে পুরনো একটি বাংলা গান ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে বাইক চালানোর প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহও ছিল; ঐতিহ্যবাহী শাড়ি বা আধুনিক জিনসে বাইক চালানোর রিলগুলো দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিল। এছাড়া তিনি ব্রাইডাল মডেল হিসেবেও কাজ করতেন।

হুগলি গ্রামীণ পুলিশ ঘটনার সকল দিক খতিয়ে দেখছে এবং ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, সাইট ইনভেস্টিগেশন ও পরিবারের বিবরণ মিলিয়ে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণের চেষ্টা চালাচ্ছে। ঘটনার আরও তথ্য পাওয়া গেলে কর্তৃপক্ষ তা জানানোর কথা বলেছে।

পরিবার ও অনুরাগীদের শোকের মধ্যে সোশাল মিডিয়ায় সায়নীর স্মরণে ভিড় শুরু হয়েছে; অনেকে তাঁর মিষ্টি কণ্ঠ ও সাদামাটা উপস্থিতির কথা তুলে ধরে শেষবারের ভিডিও দেখে স্তম্ভিত হয়েছেন।