শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অরুণাচলে ইটানগরে ১৫টি অননুমোদিত মসজিদ সিলগালা

উত্তর-পূর্ব ভারতের অরুণাচল প্রদেশের রাজধানী ইটানগর অঞ্চলে একসঙ্গে ১৫টি অননুমোদিত মসজিদ সিলগালা করা হয়েছে। ঘটনাটি দেশের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি শুক্রবার (৫ জুন) রিপোর্ট করে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব স্থাপনা কথিত জমি দখল ও অনুমতি ছাড়া গড়ে ওঠার অভিযোগের ভিত্তিতে তালাবদ্ধ করা হয়েছে।

এই পদক্ষেপটির পেছনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে অরুণাচল প্রদেশ আদিবাসী যুব সংগঠন এপিআইওয়াইও। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ জমি দখল ও অনুমতি ছাড়া ধর্মীয় নির্মাণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে এবং রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টার বনধও পালন করেছিল। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে তাদের দাবি না মানা হলে তারা আরও কঠোর আন্দোলনে নামবে।

ঘটনাটি নিয়ে অরুণাচলে অবৈধ অভিবাসন, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন ও আদিবাসীদের সুরক্ষা নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ নিজেই স্বীকার করেছে যে সীমান্ত রক্ষায় শিথিলতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ, তাই বেশি নজরদারি প্রয়োজন।

মে মাসে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু ডাকা একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক থেকেই বিষয়টি প্রথম বড় আকারে উঠেছিল। সেই বৈঠকে ছাত্র ও আদিবাসী সংগঠন, সুশীল সমাজ, আইন বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে আদিবাসীদের অধিকার ও ইনার লাইন পারমিট (আইএলপি) ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করে।

মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন রোধ ও আদিবাসীদের অধিকার রক্ষায় সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন ও বলেছেন যে বিষয়টি শুধু প্রাদেশিক নয়, জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যুও বটে। তার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কিছু দাবি নীতিগতভাবে মেনে নিয়ে আইএলপি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আলাদা একটি বিভাগ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সরকারি এক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী নতুন এই বিভাগ নজরদারি বাড়াবে এবং বর্তমানে বহাল থাকা নিয়মগুলো আরও কড়া করে বাস্তবায়ন করবে। কর্তৃপক্ষ বলছে, আইনের সীমানার মধ্যে থেকে আদিবাসীদের পরিচয়, সংস্কৃতি ও অধিকার রক্ষাকে তারা প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে।

রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ও মুখ্য সচিব্যভাষা পি ডি সোনা বলেছেন, এপিআইওয়াইও প্রতিনিধিরা জানুয়ারিতে মুখ্যমন্ত্রীর সাথে আলোচনায় বিষয়টি উত্থাপন করলে জেলা কর্তৃপক্ষকে অননুমোদিত স্থাপনা শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে এক সরকারি জরিপে রাজধানী অঞ্চলে মোট ১৫টি অননুমোদিত মসজিদের উপস্থিতি চিহ্নিত করা হয়।

জরিপের পরে জেলা কর্তৃপক্ষ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ১২টি স্থাপনাকে সিল বা খালি করে দেয়। বাকী তিনটি স্থানকে ১ জুন মুখ্যমন্ত্রী ও এপিআইওয়াইও নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয় এবং পরে সেগুলোর বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

পি ডি সোনা আরো বলেছেন, যেসব উদ্বেগের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেগুলো আইনসম্মত প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে এবং জনস্বার্থ বিবেচনায় সংগঠনটি ভবিষ্যতে যে কোনো বন্ধ ডাক পুনর্বিবেচনা করবে। রাজ্য সরকার বলছে বিষয়টি নিয়মকানুন মেনে পরিচালনা করা হচ্ছে এবং পরবর্তী পর্যায়ে নজরদারি বজায় রাখা হবে।