বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাহুল গান্ধীর আহ্বান: ভারত ও সংবিধান রক্ষায় ঐক্য জরুরি

দেশের স্বার্থ ও সংবিধান রক্ষার্থে সবাইকে একজোট হয়ে লড়াই করার ডাক দিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। সোমবার (৮ জুন) নয়াদিল্লিতে হওয়া ওই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি সতর্ক করে জানান, পারস্পরিক বিভেদ রাখলে জোটের মূল লক্ষ্য ব্যাহত হবে এবং প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপিকে হারানো কঠিন হয়ে উঠবে।

প্রায় ১৫ মিনিটের বক্তব্যে রাহুল গান্ধী জোটের কিছু শরিক দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ভোট চুরি’-র মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে প্রত্যাশিত সমর্থন না পাওয়ায় মর্মাহত হয়েছেন। একই সঙ্গে যারা জোটে থাকা সত্ত্বেও নিয়মিতভাবে কংগ্রেসকে সমালোচনা করে যাচ্ছেন, তাদেরকেও কঠোর ভঙ্গিমায় তির ছুড়েছেন তিনি। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, এই সমালোচনার কেন্দ্রস্থলে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস ও বামপন্থী দলগুলোর কিছু আচরণ।

বৈঠকে ভোটার তালিকা জালিয়াতি ও বিশেষ নিবিড় সংশোধন (‘এসআইআর’) প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা নিয়ে জোটের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য গড়ে উঠেছে। জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা ভারতের প্রধান বিচারপতির কাছে একটি যৌথ স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা খুব শিগগিরি হস্তান্তর করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

রাহুল গান্ধী যুক্তি দেখান যে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল থেকেই প্রমাণ মেলে যে বিজেপিকে পরাজিত করা অসম্ভব নয়, তাই অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে শক্তি বাড়াতে হবে। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি স্মরণ করান, ২০১৯ সালের ৩০৩ আসনের থেকে ২০২৪ সালে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে ২৪০ আসনে সীমাবদ্ধ থাকে; আর কংগ্রেস ২০১৯ সালের ৫২ আসন থেকে বেড়ে ৯৯ আসনে পৌঁছে।

লোকসভায় বিরোধী শক্তির সাম্প্রতিক ঐক্যের বড় প্রমাণ হিসেবে রাহুল পাল্লা দেন সরকারী সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিলটি একত্রে প্রতিহত করার ঘটনাকে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ১৭ এপ্রিল লোকসভায় ওই বিল প্রতিহত করার ঘটনাকে জোটের একতার অনন্য নজির হিসেবে উল্লেখ করেন।

বৈঠকটি চার রাজ্যের সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর আয়োজিত হয়—যেখানে আসাম ও বাংলা-এ বিজেপি সরকার গঠন করেছে, কেরালায় কংগ্রেস জয়ী হয়েছে এবং তামিলনাড়ুতে বড় সাফল্য এসেছে। এসব ফলাফলকে সামনে রেখে রাহুল ও অন্যান্য নেতারা জোটের ঐক্য আরও গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেন।

ভবিষ্যৎ কার্যক্রম হিসেবে জোট সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা এখন থেকে প্রতি দুই মাস পরপর বৈঠক করবে। পরবর্তী বৈঠকটি আগামী আগস্টে হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি