বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এক ডলারের বিনিময় হার প্রায় ১২২–১২৩ টাকা: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকারের নীতিগত উদ্যোগের ফলে বৈদেশিক লেনদেনে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে এবং এক মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বর্তমানে প্রায় ১২২ থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে রয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।

প্রশ্নে আবুল কালাম জানতে চেয়েছিলেন যে, আমদানি নিয়ন্ত্রণের নানা উদ্যোগ নেওয়ার পরও ডলারের অবস্থা আগের মতোই কেন টেকসই হয়নি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ঘাটতি বাড়ছে কি না; সেই সঙ্গে ঘাটতি কমাতে আমদানির ওপর বাঁধা ছাড়া সরকারের আরও কী পদক্ষেপ আছে, তা জানতে চেয়েছেন তিনি।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘এটি সম্পূর্ণভাবে সঠিক নয়। মুদ্রাবাজারে চাপ থাকলেও সাম্প্রতিক নীতিগত উদ্যোগের কারণে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হয়ে আসছে।’’ তিনি জানান, আমদানি ব্যবস্থাপনা, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় বাড়ানো এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা এগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আমদানি নিয়ন্ত্রণই সরকারের একমাত্র কৌশল নয়। বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়ানো, রপ্তানির বহুমুখীকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, স্বল্পসুদী ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক অর্থায়ন সংগ্রহ, মুনাফা ও মূলধনের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং বিনিময় হারকে আরও বাজারভিত্তিক ও পূর্বানুমানযোগ্য করার ওপর সরকার গুরুত্ব আরোপ করেছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিরুৎসাহিত করলেও উৎপাদন, কৃষি, জ্বালানি, শিল্প ও রপ্তানির জন্য দরকারি আমদানি যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও সরকার সতর্ক। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানো, রিজার্ভ শক্তিশালী করা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য টেকসইভাবে পুনরুদ্ধার করা।

অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় আছে এবং সেই ধারায় বিনিময় হার এখন ১২২ থেকে ১২৩ টাকার মধ্যেই অবস্থান করছে।