সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রয়োজনে টাকায় প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য ক্রয় করবে কেসিসি: প্রশাসক মঞ্জু

ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও প্রতিরোধ কার্যক্রম নিয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনে মতবিনিময় সভা সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

প্রশাসক মঞ্জু পরিবার-সমাজ ভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সকল স্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত নির্দেশনার আলোকে আমরা শহরে পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে যাচ্ছি। গত বছর ডেঙ্গুতে অনেক শিশু প্রাণ হারিয়েছে, এবারের ঝুঁকি আরও বেশি হতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই এখনই তৎপর হওয়া জরুরি। জনসচেতনতা বাড়িয়ে বার্তাগুলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে স্থানীয় নেতারা ও সমাজ সেবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিদ্যালয় সংক্রান্ত যে সব বাস্তবমুখী প্রস্তাব এসেছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। পাশাপাশি সবাই নিজেদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করলে সিটি কর্পোরেশনের ওপর বোঝাও কমবে—এমনটাই তার প্রতিজ্ঞা।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে তিনি জানান, শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বর্জ্য পরিচালনার জন্য রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনকে মডেল হিসেবে নেয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে টাকার বিনিময়ে প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য সিটি কর্পোরেশন ক্রয় করবে। বাজার ব্যবস্থাপনা ও নালাচ্যানসহ জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে হবে। ডোবা ও নালা যেখানে পানি জমে সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে; দায়িত্বে অবহেলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। শহরকে সুন্দর ও নিরাপদ রাখতে সবার সক্রিয় সহযোগিতা দরকার, বলেন তিনি।

মতবিনিময় সভার সভাপতিত্ব করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সচিব মো: রেজা রশীদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, জেলা শিক্ষা অফিসার এস এম ছায়েদুর রহামন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম প্রমুখ। কেসিসি’র ভেটেরিনারি অফিসার ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন।

সভায় সরকারি দপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তা, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা ও কিণ্ডারগার্টেনের শিক্ষকরা এবং মোটর, বাস ও ট্রাক মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সাধারণ জনস্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়ন নিয়ে মতামত ও প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।