বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইসরায়েল চেয়েছিল ইরান-চুক্তির নথি দেখতে, যুক্তরাষ্ট্র অনুরোধ নাকচ করেছে

আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনার জন্য তা দেখতে ইসরায়েলের করা অনুরোধ যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে ওই চুক্তির পূর্ণ বিবরণ এখনও ইসরায়েলের কাছে স্পষ্ট নয়।

ইসরায়েলি চ্যানেল ১২-কে উদ্ধৃত করে আনাদোলু জানিয়েছে, তেল আভিবের কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনের কাছে ঐ সমঝোতা স্মারকটি দেখার অনুরোধ করেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র সেই অনুরোধ মেনে নেয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। চ্যানেল ১২’র খবরে বলা হয়েছে, এই চুক্তিটি আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে সই হওয়ার কথা রয়েছে, কিন্তু ইসরায়েল এখনও চুক্তির পুরো কপিটি দেখেনি।

অপরদিকে আনাদোলুতে নাম না প্রকাশের শর্তে দেওয়া এক সূত্র জানিয়েছে, তেল আভিব আসলে ইউএস আলোচক দলের কাছে এমন কোনো অনুরোধ করেনি। সেই বিরোধী তথ্যের কারণে পরিস্থিতি কিছুটা জটিলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা এই প্রতিবেদনকে ‘ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং বলেছেন, আলোচনা চলার সময়ে ওয়াশিংটন তার আঞ্চলিক অংশীদারদের, বিশেষ করে ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় চালিয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন তিনি চুক্তিপত্রের ‘প্রতিটি শব্দ’ পর্যালোচনা করবেন। তবে কবে পূর্ণ পাঠ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো সময়সীমা দেননি।

চ্যানেল ১২ জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সম্পর্কিত এই সমঝোতা সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক পূর্ণ পাঠ প্রকাশ করা হয়নি। তবে ইরানি গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হচ্ছে, স্মারকটিতে মোট প্রায় ১৪টি ধারা রয়েছে।

ইরানি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে এসব ধারার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে—দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া, ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইরানের পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।

ট্রাম্পের কথায়, শুক্রবার জেনেভায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে। তবু এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন বা তেহরান কোনো পক্ষই সমঝোতা স্মারকের পূর্ণ পাঠ প্রকাশ করেনি—এমনটাই জানানো হয়েছে আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে।