খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, বর্তমান সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে সবচেয়ে জরুরি কাজ হচ্ছে সৌরশক্তিকে কার্যকারভাবে কাজে লাগানো। তিনি বলেন, সোলারের যুগ শুরু হওয়ার পর যে গতি দেখা গিয়েছিল, সেটা এখন হঠাৎ থেমে গেছে। গ্রামের হাট-বাজার ও বিভিন্ন দোকানে সৌরপ্যানেলের ব্যবহার তাৎপর্যপূর্ণভাবে বেড়ে উঠেছিল, কিন্তু কারিগরি দক্ষ জনবলের অভাব এবং পূর্বের কিছু প্রশাসনিক অনিয়ম ও অসহযোগিতা এই সেক্টরের ধারাকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
তিনি এসব কথা বলেন বুধবার দুপুরে নগরের সোনাডাঙ্গায় কেসিসির সোলার এনার্জি পার্কের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘‘নবায়নযোগ্য জ্বালানী হিসেবে সৌরবিদ্যুতের গুরুত্ব: সমস্যা, সম্ভাবনা ও করণীয়’’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায়। সেমিনারটি নাগরিক সংগঠন পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চ ‘‘প্রকৃতিতে বাঁচি—প্রকৃতি বাচাই’’ শিরোনামে আয়োজন করে; মূলত সোলার এনার্জি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বর্তমানে বিকল্প জ্বালানির অভাবে চলা সম্ভব হচ্ছে না—বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা সম্প্রতি তা আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। তিনি জানান, চীনের একটি কোম্পানি খুলনায় সোলার প্যানেল উৎপাদন প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী; সরকারের ও জেলার পক্ষ থেকে বিনিয়োগকারীদের এই আগ্রহ কাজে লাগানো উচিত। বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবেলায় বিচ্ছিন্নভাবে নয়, সমন্বিত ও পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহন করা দরকার। তিনি সবুজ ও সোলার শহর গঠনকে গুরুত্ব দিয়ে বললেন, কেসিসি’র সোলার এনার্জি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি পুনরায় চালু করা হবে।
বক্তারা সেমিনারে আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা তেলের, গ্যাসের ও কয়লার আমদানিতে জটিলতা তৈরি করেছে এবং মূল্যগুলো অত্যন্ত উচ্চসীমায় পৌঁছে গেছে। এতে অনেক শিল্প-কারখানা উৎপাদন কমাচ্ছে বা বন্ধের বাইরে গড়ে উঠছে; পানির অভাব ও সেচ সমস্যার কারণে কৃষি ও কৃষকেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার-এর ফলে কার্বন নিঃসরণ বেড়ে পরিবেশ ও জলবায়ুতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে—ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ বাড়ছে।
তবে আশার কথা, সরকার নবায়নযোগ্য শক্তির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সেমিনারে বলা হয়, বর্তমান সরকার রিনিউয়্যাবল এনার্জি খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আরও জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সোলার যন্ত্রাংশ আমদানি শুল্কমুক্ত করার প্রস্তাব নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যা খাতটির উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চের সভাপতি এড. কুদরত-ই-খুদার সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ ইয়াহিয়া, কেডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী মোঃ সাবিরুল আলম, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিহির লাল সরদার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. সালাহ উদ্দিন মিনা, ওজোপাডিকো’র সহকারী প্রকৌশলী নন্দলাল চন্দ্র সরকার, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাম, কেসিসি’র সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জাহিদ হোসেন শেখ এবং জেট নেট বিডি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ। ইনিশিয়েটিভ ফর রাইট ভিউ’র নির্বাহী পরিচালক মেরিনা যুথি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।
সমাপ্তি বক্তব্যে সার্বিকভাবে সোলার এনার্জিকে স্থানীয় স্তর থেকে নীতি পর্যায় পর্যন্ত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে শক্তভাবে এগিয়ে নেওয়ার উপর জোর দেয়া হয়। বক্তারা বললেন—পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করলেই সৌরশক্তি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।





