শনিবার সাউদাম্পটনে খেলায় নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেট দল। নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বাধীন দল এ জয় দিয়ে তিন ম্যাচে তাদের দ্বিতীয় জয় তুলে নিল।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। শুরুটা ভালো ছিল না — মাত্র ১৩ রানে তিন ওপেনার ফিরতে থাকেন। দিলারা আক্তার ৫, জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ৭ এবং শারমিন আক্তার শূন্য রানে আউট হলে দল ঝুঁকিতে পড়ে। কিন্তু অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও সোবহানা মোস্তারি ধৈর্য ধরে ইনিংস গড়েন এবং কিছুটা স্থিতি আনে। জ্যোতি ৩৮ বলে ৩৬ ও সোবহানা ১৯ বলে ২২ রান করেন।
ইনিংসের শেষভাগে স্বর্ণা আক্তারের ঝড় সুন্দরভাবে আসে — মাত্র ২২ বলে অপরাজিত ৩৯ রান করে তিনি দলকে সংযোজিত স্কোর দিতে সক্ষম হন। তার কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ফলে বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১২৩ রান সংগ্রহ করতে পারে। রাবেয়া খান শেষদিকে ৪ রানে অপরাজিত থাকেন।
পাকিস্তানের বিপক্ষে বল করতে নেমে বাংলাদেশের বোলাররা দুর্দান্ত চাপ সৃষ্টি করেন। মারুফা আক্তার নিজের প্রথমে ওভারটি মেইডেনে রাখেন। বাংলাদেশের স্পিন ত্রয়ী — সানজিদা আক্তার মেঘলা, নাহিদা আক্তার ও রাবেয়া খান — বিশেষ ভাবে কার্যকর ছিলেন; তাদের একটার পর এক উইকেটে পাকিস্তানের মার্জিত শুরুর লাভটা প্রশ্নচিহ্নে পরিণত হয়।
পাওয়ারপ্লেতে গুল ফিরোজা ও মুনিবা আলি দ্রুত উভয়েই শুরু করেন এবং প্রথম ৬ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়েও পাকিস্তান ৪১ রানের জুটিতে ভালো অবস্থানে যায়। সেখান থেকেই বাংলাদেশের-spinner-রা ম্যাচের ধারা ঘুরিয়ে দেন। নাহিদা আক্তার প্রথমে ১৮ বলে ২৩ রান করা গুল ফিরোজাকে ফেরান এবং পরের ওভারেই ৩০ বলে ২৫ রান করা মুনিবা আলিকেও আউট করেন। একই ওভারে মেঘলা আয়েশা জাফরকে (১২ বল ১১) ও আলিয়া রিয়াজকেও আউট করে পাকিস্তানের বিপর্যয় deepens।
ফলস্বরূপ, মাঝখানে পাকিস্তান দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে — মাত্র কয়েক ওভারেই তারা ধাক্কায় পড়ে যায়। রাবেয়া খান ইরাম জাভেদকে ফেরান এবং নিজের স্পেলে একটি উইকেট-মেইডেনও নিয়েছেন। ফাতিমা সানা ছিলেন পাকিস্তানের সেরা বোলার; তিনি ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। এছাড়া সাদিয়া ইকবাল, তাসমিয়া রুবাব, নাশরা সান্ধু ও তুবা হাসানও একটি করে উইকেট শিকার করেন।
ম্যাচের ১৮তম ওভারে নাহিদা আক্তার পাকিস্তান অধিনায়ক ফাতিমা সানাকে (১৭ বলে ১০) ফিরিয়ে দিয়ে বাধ্যতামূলক চাপ আরও বাড়ান। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১০০ রানে থামে। ফলে বাংলাদেশ ২৩ রানে জয় নিশ্চিত করে।
খেলায় মানসিক দৃঢ়তা ও দক্ষ বোলিংই বাংলাদেশের জয় দান করে। এমন কঠিন উদ্দেশ্যে পাকিস্তান যখন মাঝপথে ভালো অনুশাসন দেখালেও স্পিন এবং নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথে বাংলাদেশের বোলাররা তাদের লক্ষ্য আটকায়। ব্যাট হাতে স্বর্ণা আক্তারের শেষ স্প্রিন্ট ও কৌশলী ক্যাচ-আকল বাংলাদেশকে জয়ের পথে ধরে রাখে।
এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপ পয়েন্ট টেবিলে নিগার সুলতানা জ্যোতিরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। দলের এই মনোবল ও সমন্বয় ভবিষ্যত ম্যাচগুলোতেও তাদের আরও ভালো পারফর্ম করার ইঙ্গিত দেয়।





