মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিকল্প অর্থায়নের দিকে যাচ্ছি, ব্যাংক নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমাবো: অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, স্থানীয় ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমিয়ে দেশের অর্থায়ন কাঠামোকে বাজারভিত্তিক ও বিকল্প উৎসের দিকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। তিনি উদ্দেশ্য রাখছেন যে উচ্চ সুদে ব্যাংক ঋণ নিয়ে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে না।

মন্ত্রী জানান, স্থানীয় ব্যাংক থেকে ১০ থেকে ১৩ শতাংশ সুদে ঋণ নেওয়ার ফলে বেসরকারি খাতের প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে পড়ে। সরকার ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ঋণের উপর নির্ভরতা কমানোর নানা উদ্যোগ রেখেছে, যাতে অর্থায়নের বিকল্প পথ গড়ে উঠতে পারে।

রোববার (২১ জুন) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত বাজেট পর্যালোচনা সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত দশক ধরে তিনি বারবার বলেছেন যে সরকার লোকাল ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেবে না। এমন উচ্চ সুদে সরকার কিভাবে ঋণ পরিশোধ করবে—এটাই বড় প্রশ্ন। তাই ব্যাংক নির্ভরতা কমিয়ে ধীরে ধীরে বাজারভিত্তিক ও অন্যান্য বিকল্প অর্থায়নের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।

বাজেট প্রণয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণত ছয় মাস নেওয়া কাজটি মাত্র দেড় মাসে সম্পন্ন করতে হয়েছে। পাশাপাশি তারা পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে অনেক পাওনা এবং বকেয়া বিল উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে; এর মধ্যে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা পরিমাণের বিদ্যুৎ বিল এখনো অদায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারকে ঋণের সুদ বা ডেট সার্ভিসিংয়ে প্রতিবার প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা খরচ করতে হচ্ছে, যা সরকারি ব্যয়ের জায়গা বা ‘ফিসকাল স্পেস’ সংকুচিত করে দিচ্ছে এবং উন্নয়ন ব্যয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়েও মন্ত্রী জোর দিয়েছেন যে সহায়তা সরাসরি প্রাপকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে, যেন মধ্যস্থতায় কেউ না থাকে। গৃহিণী বা পরিবারের যোগ্য সদস্যের অ্যাকাউন্টে পে-আউট নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে গৃহস্থালী কাজ করা মহিলাদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী, কৃষক ও দুর্বল শ্রেণির খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াও জোরদারে চলছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সীমাবদ্ধতার মধ্যেও জিডিপি অনুপাতে শিক্ষা বাজেট ২ শতাংশে রেখে দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এটি ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। জাতির সার্বিক সক্ষমতা বাড়াতে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, স্কিল ডেভেলপমেন্ট, রিস্কিলিং ও আপস্কিলিং-এ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ‘প্রিভেন্টিভ হেলথ কেয়ার’ বা প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবায় জোর দেয়া হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমে এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী হয়।

সংলাপে বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান এবং গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ।