কিলিয়ান এমবাপে এক দারুণ জোড়ারই সুবাদে ফ্রান্সকে নকআউটে পাঠালেন। ম্যাচের শেষার্ধে প্রতিপক্ষ অর্ধ থেকে বেরিয়ে দুই ডিফেন্ডার ছুঁড়ে পাশ করলেন, সামনে কেবল গোলরক্ষক—একটু বামে ভাঁজ নিয়ে শট নিলেন, তবে বল গোলবারের ওপরে দিয়ে মাঠের বাইরে চলে যায়; ফলে হ্যাটট্রিক আর হল না।
শুধু এমবাপের কাজেই নয়, সমগ্র দলের সংগ্রামেও ফ্রান্স জয়ী হয়ে ইরাককে ৩-০ গোলে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখে বিশ্বকাপের শেষ ৩২ নিশ্চিত করে নিল। টুর্নামেন্ট শুরু করেছিলেন সেনেগালের বিরুদ্ধে জয় দিয়ে; এখন দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে ‘আই’ গ্রুপ থেকে আগেভাগে নকআউট টিকিট কেটেছে ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়নরা।
৫৪তম মিনিটে ঘটে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি—ইরাকের গোলরক্ষক বাসিলের বড় ভুলের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এমবাপে গোল করেন। গোলকিকের পরে সংঘটিত বিভ্রান্তিতে তাহসিনের একটি পাসের পরে বাসিল বলকে ঠিকভাবে ক্লিয়ার করতে পারেননি। পা ফসকে বল কাছেই থাকা দেম্বেলের পায়ে গেল, দেম্বেলে মাঝমাঠে এমবাপেকে ফাঁক দেখতে পেয়ে চমৎকার এক পাস দিলেন এবং এমবাপে নিখুঁতভাবে বলটিকে জালে পাঠালেন। এই গোলটি চলতি টুর্নামেন্টে তার চতুর্থ এবং বিশ্বকাপে তার ১৬তম বলে পাওয়া গেছে—মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছোঁয়ার পথে তিনি; পরবর্তী গ্রুপ ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে সুযোগ আছে ক্লোসেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার। বর্তমানে লিওনেল মেসি ১৮ গোল নিয়ে শীর্ষে আছেন।
৬৬ মিনিটে দেম্বেলের আরও এক অনবদ্য শট মিস নয়—ওলিসে আক্রমণ তৈরির সূচনা করেন এবং পাসটা পৌঁছালে দেম্বেলে ডি-বক্সের ডান দিক থেকে শক্তিশালী শটে বল পোস্টের বাম পাশ দিয়ে জালে জড়ান; এতে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-০।
এই ম্যাচের প্রথমার্ধে এমবাপে ছিলেন শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচে; ১৪ মিনিটে তার জোড়া টাচের ফলেই প্রথম গোল আসে। একজন ডিফেন্ডারের ক্লিয়ার না করতে পারায় বল ওলিসের কাছে পৌঁছে, তাঁর ব্যাকপাস থেকে এমবাপে গোল করে দেন। ওই গোলের সঙ্গে মিলিয়ে তিনি গোলদাতার তালিকায় রোনালদোর ছোঁয়া পান।
এম্বাপে ক্লাব ও দেশের জোড়া পারফরম্যান্স ধরে রেখেছেন—সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন, আজও জোড়া গোল করে ফরাসিদের বড় জয় পাকা করলেন। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে চার গোল নিয়ে তিনি মেসির ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছেন।
মঙ্গলবারের ম্যাচটি বজ্রপাতের কারণে সাড়ে এক ঘণ্টারও বেশি বিলম্বে শুরু হলোও শেষ পর্যন্ত ফরাসিরা বড় লিড নিয়ে গ্যারান্টিযুক্ত জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে।





