বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নীতি সহায়তা বাড়ালে রপ্তানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, নীতি সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের রপ্তানি আয় ১৫০ বিলিয়ন (দেড়শ’ বিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে তা রপ্তানিতে কেবল তৈরি পোশাকে সীমাবদ্ধ রাখলে সম্ভব হবে না—তাই অন্তত আরও৫–৬টি খাতে নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

মন্ত্রী জানান, এলডিসি উত্তরণকে সামনে রেখে চামড়া ও পাটখাতের সক্ষমতা বাড়াতে বিদেশি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এসব খাতের সক্ষমতা বাড়ানো হলে রপ্তানির বহুমুখীকরণে সহায়তা পাওয়া যাবে এবং বাজার ঝুঁকি কমবে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান র‌্যাপিডও রপ্তানি বহুমুখীকরণে সম্ভাবনাময় খাতগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। র‌্যাপিডের চেয়াম্যান ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক মনে করেন, চলতি বছরের নভেম্বরে না হলেও সরকার জাতিসংঘে করা আবেদনের ফলে আরও তিন বছর, অর্থাৎ ২০২৯ সাল পর্যন্ত স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে উত্তরণের সময় পেয়ে যেতে পারে। তবে এই অতিরিক্ত সময় সঠিকভাবে কাজে লাগাতে না পারলে তার সুফল মিলবে না বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

র‌্যাপিডের গবেষণায় বলা হয়েছে, মার্কেট ব্যবধান বেশি থাকায় এলডিসি উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্লাস সুবিধা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ শুল্ক সুবিধা নাও পেতে পারে। ফলে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানিও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষত হোম টেক্সটাইল, কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের ক্ষেত্রে ভারতের, ইউরোপ ও চীনের বাজারে রপ্তানি ০.২ শতাংশ থেকে ১২৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

বর্তমানে কৃষি ও শিল্প খাত মিলিয়ে প্রতি বছরে ১ মিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি করে এমন পণ্যের সংখ্যা ১,৩৯৪টি। র‌্যাপিডের নির্বাহী директর ড. এম আবু ইউসুফ বলেন, এসব খাতের সামনে থাকা ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে এবং রপ্তানি প্রণোদনার বিকল্প সহায়তা নিয়েও ভাবতে হবে।

সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক খাত ছাড়াও যদি আরও ৫–৬টি খাতে নীতিসহায়তা দেয়া হয়, তাহলে দেশের রপ্তানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে। তিনি অতীত সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়নের দুর্বলতা টেনে ধরে বলেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবভিত্তিক বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টি করে বাস্তবায়ন করতে হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী চীনে আসন্ন সফরে পাটশিল্প উন্নয়নে চীনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (মেমোর্যান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) সই হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।