বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্রগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে ক্ষুদ্র জাতি, সংখ্যালঘু, নৃ-গোষ্ঠী ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর কল্যাণ ও সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। তিনি বলেন, ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের অঙ্গীকার এবং এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বুধবার (২৪ জুন) সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ে মন্ত্রী এসব কথা জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকারও উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী সভায় দেশের উন্নয়ন ধরে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ সমান অংশ নেবে বলে জানান। তিনি বলেন, কিছু পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিকে সংখ্যালঘু ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে অবস্থানকারী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছে; কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন ও ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখেছে—এমনটাই তার বক্তব্য।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ; এখানে মানুষ যুগ যুগ ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের সঙ্গে বসবাস করে এসেছে। সরকারের দায়িত্ব হলো সব ধর্মাবলম্বীর ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং সেটিই আমরা করতে চাই।

বৈঠকে সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির প্রতিনিধিরা চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পুণ্যতীর্থ চন্দ্রনাথ ধামে আগত ভক্তদের সমস্যা তুলে ধরেন। তারা জানান, প্রতিবছর দেশের নানা অঞ্চলসহ বিদেশ থেকেও হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষ চন্দ্রনাথ ধামে পূজা-অর্চনা ও তীর্থযাত্রার জন্য আসে, কিন্তু পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে তাদের নানা ধরণের ভোগান্তি হওয়া ছাড়ছে না।

মন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তিনি চন্দ্রনাথ ধামের সিঁড়ি নির্মাণ ও সংস্কার, মন্দির উন্নয়ন এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নের দ্রুত উদ্যোগ নিতে বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থানগুলোর উন্নয়ন শুধু ধর্মীয় কারণে নয়—এগুলো পর্যটন, স্থানীয় অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের দিক থেকেও গুরুত্ব রাখে। তাই জনগণের বাস্তব চাহিদা ও প্রয়োজন বিবেচনায় সরকার এসব স্থানের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, মেজর জেনারেল (অব.) জীবন কানাই এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।