জামায়াত নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশি ১১-দলীয় ঐক্য নতুন একটি ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। চলমান আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করতে এই কর্মসূচি আগামী ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে বলে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এ তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জোটের এই কর্মসূচি ‘‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’’ স্মরণ ও তার চেতনাকে জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া, ‘‘জুলাই সনদ’’ বাস্তবায়নে জনমত গঠন এবং পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সংঘটিত গুম-খুনসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারের দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়েই পরিকল্পিত হয়েছে।
জোটের বাংলায় প্রকাশিত কর্মসূচিতে বলা হয়েছে, কর্মসূচির প্রধান আকর্ষণ হল জেলা ও মহানগরে সেমিনার, চিত্র প্রদর্শনী, দেয়ালচিত্র (গ্রাফিতি) এবং স্মৃতিচারণমূলক সমাবেশ। এছাড়া বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হবে।
মূল কর্মসূচির সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
১. ১–১৫ জুলাই: দেশের সব জেলা ও মহানগরে ‘‘জুলাই সনদ’’ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সেমিনার এবং মাসব্যাপী চিত্র প্রদর্শনী।
২. ২৩–২৫ জুলাই: রাজধানীসহ দেশে দেয়ালচিত্র বা গ্রাফিতি আঁকার কর্মসূচি।
৩. স্মৃতিচারণ ও সমাবেশ: যাত্রাবাড়ী, শাহবাগ, মোহাম্মদপুর, উত্তরা, রামপুরা, মিরপুরসহ স্মৃতিবহ স্থানগুলোতে প্রত্যক্ষদর্শী ও শহীদ পরিবারের অংশগ্রহণে স্মৃতিচারণ ও সমাবেশ।
৪. ৪ জুলাই: রাজধানী ব্যতিত সকল মহানগর ও জেলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।
৫. ৬ জুলাই: জাতীয় সংসদের সামনে শহীদ পরিবারের পক্ষে মানববন্ধন ও স্পিকারের নিকট স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে সংবিধান পরিষদ গঠন করে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান হবে।
৬. ৮ জুলাই: ঢাকায় জাতীয় সেমিনার (জেলাগুলো তাদের সুবিধামত সময়ে সেমিনার আয়োজন করবে)।
৭. ২০ জুলাই: নারী সংসদ সদস্য এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় নারী নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বিশেষ আলোচনাসভা।
৮. ৩১ জুলাই (শুক্রবার): শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দেশব্যাপী সকল মসজিদে দোয়া ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা।
৯. ৫ আগস্ট: সমাপনী সমাবেশ—রুটিন হিসেবে রাজধানীসহ দেশের সব জেলা, মহানগর ও উপজেলায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে organisers জানান, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে তারা দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চায় এবং সংশ্লিষ্ট দাবি বাস্তবায়নের জন্য জনগণের মধ্যে একটি সুসংগঠিত চাপ তৈরির আশা প্রকাশ করা হয়।





