শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কিশতওয়ারে থানায় সেনা হামলার অভিযোগ — কর্নেলসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতওয়ার জেলায় পুলিশের ওপর হামলা এবং থানায় ভাঙচুরের অভিযোগে কর্নেল এন. অরুণ গান্ধী ও মেজর বিকাশ শর্মা সহ আনুমানিক ৪০ জন সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আরও নাম রয়েছে নায়েব সুবেদার শঙ্কর গুরখে এবং ৩০-৪০ জন অজ্ঞাতনামা সদস্যকে আসামি করা হয়েছে, পুলিশ সূত্রে খবর এনডিটিভি।

পুলিশের এফআইআরে বলা হয়েছে, কিশতওয়ার জেলার আথোলি থানায় জোরপূর্বক প্রবেশ করে ওই সেনাসদস্যরা থানার ভিতরে থাকা সরকারি কর্মী ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। অভিযোগে বলা হয়, তারা থানার প্রধান ফটক ভেঙে, সীমানা প্রাচীর টপকে লাঠি, লোহার রড এবং সরকারি অস্ত্র নিয়ে ভেতরে ঢুকে পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

এফআইআরে বলা হয়েছে, আথোলির ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (ডিএসপি) বিজয় কুমার ভগত এবং আথোলি থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) অমৃত কাটোচও হামলার শিকার হন। এসএইচও জানিয়েছে, তিনি পাড্ডারের ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসে অনুষ্ঠিত এক সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—যেখানে জেলা কমিশনার সভাপতিত্ব করছিলেন—তখনই থানায় সহিংসতা শুরু হয়। সহিংসতার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত থানায় ফিরে আসেন; এফআইআরে এই তথ্য উল্লেখ আছে।

এফআইআর আরও জানায়, ডিএসপির থানায় প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই মেজর বিকাশ শর্মার নেতৃত্বে থাকা একদল সেনাসদস্য তার ওপর শারীরিকভাবে হানাখোর করে; ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তার ইউনিফর্মের শার্টও ছিঁড়ে ফেলা হয়। একই সঙ্গে এসডিপিও আথোলি বিজয় কুমারের ওপরও হামলার কথাও উল্লেখ আছে।

পুলিশ দাবি করেছে, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং অভিযুক্তরা সরকারি ও জনসম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে — এআরটিওর সরকারি গাড়ি, আথোলি থানার এসএইচও ও এসডিপিওর গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং থানার প্রধান ফটকও ধ্বংস করা হয়। এফআইআরে বলা হয়েছে, কিশতওয়ারের সহকারী আঞ্চলিক পরিবহন কর্মকর্তা (এআরটিও) কর্তৃক একটি সেনাবাহিনীর যানবাহন জব্দ করার ঘটনাকেই এই সহিংসতার শুরু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এই ঘটনায় ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে তারা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। প্রতিরক্ষা বিভাগের এক মুখপাত্র দেশীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘ভারতীয় সেনাবাহিনী আইনি প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা করবে। যৌথ তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্ত চলমান থাকায় এ পর্যায়ে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা উচিত হবে না।’

পুলিশের অভিযোগ, হামলাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ক্ষতিগ্রস্ত বা হত্যা করা। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং পুলিশ আরও তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলে বলা হয়েছে।