রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শ্রমিক-কর্মচারীদের দুর্ভোগ কমাতে মোংলা নদীতে ২৪ ঘণ্টা দুইটি ফেরি চলবে

মোংলা বন্দর ও ইপিজেডে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গী দুর্ভোগ লাঘবে জনস্বার্থে মোংলা নদীতে দুইটি ফেরি ২৪ ঘণ্টা চলাচল করবে। ফেরি চলাচলে বিঘ্ন না সৃষ্টি করতে নদী ও চ্যানেল নিয়মিত খনন করা হচ্ছে। একই সময়ে মোংলা পৌরসভার প্রধান খাল ঠাকুরানীর ময়লা-আবর্জনা তুলে পরিস্কার করা হয়েছে; খালের ঠিক স্থান নির্ধারণ করা হলে ভবিষ্যতে খননের কাজ শুরু হবে। এসব কার্যক্রম শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সহায়ক হবে এবং ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকিও কমাবে, এমন মন্তব্য করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম।

উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, উজবেকিস্তান—সমরখন্দ ও জার্মানির বন সংরক্ষণ সংক্রান্ত সফর শেষে দেশে ফেরার পর সরাসরি নিজের নির্বাচনী এলাকা ও স্থানীয় উন্নয়ন কাজে মনোযোগ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি মোংলার গুরুত্বপূর্ণ ফেরিঘাট ও ঠাকুরানী খাল পরিদর্শন করেন। এ পরিদর্শন ছিল তার দেশে ফেরার পর প্রথম মাঠ পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি।

পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী ঘাটের সার্বিক অবস্থা দেখে বলেন, আগে জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে মাত্র একটি ফেরি চলাচল করত, ফলে যাত্রী ও শ্রমিকদের দুর্ভোগ ছিল। শুক্রবার থেকে মোংলা নদীতে ২৪ ঘণ্টা দুইটি ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নতুন একটি ফেরি যোগ করা হয়েছে এবং ফেরি চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে মোংলা-ঘাষিয়াখালী চ্যানেল নিয়মিত খনন করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, মোংলা পৌরসভার প্রধান খাল ঠাকুরানী খাল উদ্ধার করাই তার আরেক নির্বাচনী অঙ্গিকার ছিল, যার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। খালের ময়লা-আবর্জনা তুলে ফেলা হয়েছে এবং এখন খালের সীমা পরিমাপের কাজ চলছে; পরবর্তী ধাপে পানি উন্নয়ন বোর্ড খাল খনন করবে। খাল উদ্ধারের ফলে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহায়তা মিলবে এবং শহরের সৌন্দর্যও বাড়বে।

পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক শারমিন আক্তার সুমি, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মোঃ জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম নুর জনি, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আঃ মান্নান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, সড়ক ও জনপথ (রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে) বিভাগের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন পেশাজীবী প্রতিনিধি, শ্রমিক-কর্মচারী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা।

পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত কর্মকর্তাদের কাজের গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুততা সহকারে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন এবং স্থানীয়দের প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন।