রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর চীন ও মালয়েশিয়া সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ়

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন ও মালয়েশিয়া সফরের ফলে বাংলাদেশের ওই দুই দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে। তিনি বলেন, এই সফর অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নতুন বিনিয়োগ আনা এবং শ্রমবাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক অনুষ্ঠিত সফরের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘‘গত কয়েক বছর ফ্যাসিবাদী শাসন প্রবণতা ছিল, কিন্তু গত চার মাসে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী চীন ও মালয়েশিয়া সফর করেছেন এবং এই সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সম্পন্ন করেছেন, যা দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিকে আরও দৃঢ় করবে।’’

মন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশ সফরে অনাবশ্যক আনুষ্ঠানিকতা এড়িয়ে আমাদের নেতৃত্ব সৎ ও সরল আচরণ করেছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজেই বিদেশ সফরের আগে ও পরে কোনো ধরনের সংবর্ধনা না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেই নিয়ম মেনে কাজ করা হয়েছে। এর ফলে সফর আরও সরল ও সফল হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরেই স্থবির হয়ে থাকা শ্রমবাজারকে পুনরুজ্জীবিত করা, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ব্যবস্থা এবং সেখানে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করা—এসব ক্ষেত্রে এই সফর ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবে।

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ব্যবসা-বাণিজ্য, বড় অবকাঠামো খাতে নতুন বিনিয়োগ এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব বাড়াতে মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন এসব চুক্তি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণে গতি আনবে।

একই সঙ্গে মির্জা ফখরুল জানান, রোহিঙ্গাসহ অন্যান্য জটিল সমস্যার সমাধানে চীন সহযোগিতার অঙ্গীকার করেছে এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় চীন উদ্যোগ নেবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কूटনৈতিক সম্পর্কের কারনে এসব জটিল ইস্যুতে অগ্রগতি সম্ভব হবে।