রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিশ্বব্যাংক দিচ্ছে বাংলাদেশকে প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার জরুরি সহায়তা

বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা) জরুরি সহায়তা দিচ্ছে। এই তহবিল খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষি উৎপাদন বজায় রাখা, মানুষের জীবিকা রক্ষা এবং বৈশ্বিক সার ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলা করা লক্ষ্য করে প্রদান করা হচ্ছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) দুটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় এই অর্থায়নের অনুমোদন দেন বিশ্বব্যাংক। সংস্থার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সহায়তা দ্রুত ছাড় করে মাঠে কাজ শুরু করা হবে যাতে ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ও কৃষকরা দ্রুত সুবিধা পায়।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসমে বলেন, এই অনুদান ধান চাষে ব্যবহৃত সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে, মানুষের কর্মসংস্থান রক্ষা করতে এবং জরুরি সেবা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে। তিনি বলেন, সারের সুবিধা পৌঁছে দিলে ক্ষুদ্র ও মধ্যম কৃষকেরা মৌসুম ধরে উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারবেন।

প্রথম প্রকল্প ‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি’-এর জন্য অনুমোদিত তহবিল ৩০ কোটি ডলার (প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা)। এই অর্থ আমন মৌসুম (২০২৬ সালের জুলাই-অক্টোবর) এবং বোরো মৌসুম (২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের এপ্রিল) চলাকালীন জরুরি সারের আমদানিতে ব্যবহার করা হবে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট সারের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি আমদানিনির্ভর; প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬ লাখ টন মূল সার আমদানি করা হবে, যার অর্ধেকই ইউরিয়া। এতে প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমিতে ক্ষুদ্র কৃষকের ধান উৎপাদন অব্যাহত থাকতে সহায়তা মিলবে।

অন্যদিকে ‘কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় দেয়া হবে ৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলার (প্রায় ৮ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা)। এই তহবিল দ্রুত ছাড় করা হবে এবং তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং ক্ষতিপূরণপ্রাপ্তদের নগদ সহায়তা ও জীবিকা পুনরুদ্ধার কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বজায় রাখতে এবং জরুরি সেবা সচল রাখতে জ্বালানি ইত্যাদিতেও অর্থ খরচ করা হবে। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, এই প্রকল্পের তহবিল ৩০ জুনের মধ্যে ছাড়ের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার ও বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ সুলেমান কৌলিবালি বলেন, দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে আমন ও বোরো মৌসুম থেকে, এবং জনসংখ্যার বড় অংশ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। সারের সরবরাহ ব্যাহত হলে শুধু খাদ্য নিরাপত্তাই নয়, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য পরিস্থিতিও প্রভাবিত হবে—সেজন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ লেসলি জিন ইউ করদেরো বলেন, বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাস করে এই সহায়তা দ্রুত প্রাপ্য করা হবে। এর ফলে মানুষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থানকে অর্থনৈতিক ঝাঁকুনির সময় সুরক্ষা দেয়া সম্ভব হবে।

এই অনুদান কৃষি ও জরুরি সেবা বজায় রেখে দেশের খাদ্য ও জীবিকা সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রান্তিক ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দ্রুত তহবিল ছাড় ও কার্যকর বাস্তবায়ন হলে ক্ষুদ্র কৃষক ও দুর্বল পরিবারগুলো সঠিক সময়ে সহায়তা পাবে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সাহায্য করবে।