বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। আক্রান্ত নিউমোনিয়াজনিত জটিলতার জন্য তিনি রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় সেখানে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়েস ছিল ৯০ বছর।
মুস্তাফা মনোয়ারের স্ত্রী মেরী মনোয়ার জানান, তাঁর ফুসফুসে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ছিল—যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছিল। তিনি বলেন, ১৪ জুন জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর প্রেসার ও অক্সিজেনের মাত্রা কমতে থাকায় চিকিৎসকরা আইসিইউতে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। দুই সপ্তাহেরও বেশিকাল বিশেষ জটিলতায় চিকিৎসাধীন থাকার মধ্যে গত চারদিন তিনি আইসিইউতে ছিলেন।
চিত্রশিল্পীর অসুস্থতা ও মৃত্যুর খবরের পর সহকর্মী, ছাত্র-শিষ্য ও শুভানুধ্যায়ীরা সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন এবং শিল্প সম্প্রদায়ে শূন্যতার কথা উল্লেখ করেছেন।
মুস্তাফা মনোয়ার ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তাঁর পিতা প্রয়াত কবি গোলাম মোস্তফা এবং মায়ের নাম জমিলা খাতুন।
শিক্ষাজীবনে তিনি নারায়ণগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাসের পর কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে বিজ্ঞানে ভর্তি হন। পরে পড়াশোনা ছেড়ে কলকাতার চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে যোগ দেন এবং ১৯৫৯ সালে ফাইন আর্টসে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। দেশে ফেরার পরে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদ인의 পরামর্শে আর্ট কলেজে পড়ানোর দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করলেও পরে তিনি সেই পথ ছেড়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) যুক্ত হন।
রঙিন ও সমৃদ্ধ কর্মজীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন এবং জীবদ্দশায় আরও বহু গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার পেয়েছেন।
মুস্তাফা মনোয়ারের অন্ত্যেষ্টি ও পরিবারের পক্ষ থেকে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণা জানানো হবে। দেশের শিল্পসাহিত্যে তাঁর অমলিন অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় থাকবে।





