সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর ১০% থেকে ৫% করার প্রস্তাব জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের বাজেট আলোচনায় বলেণ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর ধার্যকৃত কর হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা উচিত। সোমবার সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর বক্তব্যে তিনি এই প্রস্তাব জানান।

তবে করছাড় দেওয়ার শর্ত হিসেবে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ বাড়াতে হবে এবং গবেষণায় বিনিয়োগ জোরদার করতে হবে। ভাষা শিক্ষা ও ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব চালু করা—এসব বাধ্যতামূলক শর্ত হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর সুবিধার বিনিময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু লাভের মুখে না থেকে সমাজসেবায়ও সক্রিয় হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণা ও উন্নয়ন কাজে বেশি ব্যয় করবে—এটাই সরকারের প্রত্যাশা।

তিনি আরও জানান, প্রস্তাবিত বাজেটের কিছু ক্ষেত্রে ভ্যাট হ্রাসের কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি কর ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও আধুনিক করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, ব্যাংক হিসাব খোলা, বণ্টননামা দলিল নিবন্ধন ও সম্পত্তি মিউটেশনের ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব নিয়ে জনমতে বিভ্রান্তি দেখা গেছে। তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান, কারণ অনেকেই সেটিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেটে স্বপ্রণোদিত বিনিয়োগ প্রদর্শনের বিধানও রয়েছে, যার উদ্দেশ্য করদাতাদের ঝামেলা কমানো—কারণ অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত ক্রয়মূল্য না দেখানো হয়। কিন্তু কিছু মানুষ এটিকে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে; এজন্য তিনি অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলে দিয়েছেন, জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখে সংশ্লিষ্ট বিধানটি পুনর্বিবেচনা বা প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হোক।

আয়কর অব্যাহতির সীমানা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তিগত আয়ের করমুক্ত সীমা ধার্য করা হয়েছে। বাজেটে নির্ধারিত প্রথম খসড়া অনুযায়ী ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ এর জন্য ৪ লাখ এবং ২০৩০-৩১ কর বছরের জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা vorgeschlag করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত করদাতাদের কিছুটা স্বস্তি দিতে বরাবরের চেয়ে বেশি সুগঠিত প্রস্তাব প্রয়োজন—এ কারণে তিনি অর্থমন্ত্রীর কাছে আয়ের করমুক্ত সীমা আরও বাড়িয়ে দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তার প্রস্তাব অনুযায়ী ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ কর বছরের জন্য ৪ লাখ টাকা, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ বছরের জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ কর বছরের জন্য ৫ লাখ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

শেষে তিনি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের একটি মহাপরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ, কৃষি ও পরিবহনে সুবিধা বাড়ানো হবে বলে তিনি জানান।