শুক্রবার, ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জামায়াত আমির: ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করেছি, সময় হলে প্রকাশ করব

বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, দলটি একটি ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করেছে। সাংবিধানিক মর্যাদা না থাকলেও এই ব্যবস্থা বিশ্বজুড়ে প্রচলিত রয়েছে এবং সময় হলে তা প্রকাশ করা হবে। তিনি এসব কথা বলেছেন জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বুধবার (১ জুলাই)।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা গান-বাজনার সংসদ চাই না; সংসদকে দায়িত্বশীল ও সমস্যাসমাধানমুখী দেখতে চাই। জনগণের বাস্তব সমস্যা নিয়ে কথা হবে, তবেই একটি স্থিতিশীল সংসদ গড়ে উঠতে পারে—এটাই আমাদের উদ্দেশ্য।

সরকার গণভোট না মেনে জাতীয় জীবনে সংকট সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, গণভোট আমরা চেয়েছি, বিএনপিও চেয়েছে। আমরা নিয়ম মেনে সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়েছি, কিন্তু বিএনপি সেটা নেয়নি। বিএনপি সংবিধানে না থাকার কারণ দেখালেও এর ব্যতিক্রম অন্য ক্ষেত্রেও আছে—তিনি উদাহরণ হিসেবে ড. ইউনূসের সরকারের কথাও উল্লেখ করেন এবং বলেন, বিএনপি তাদের আয়োজন করা নির্বাচনের মাধ্যমে আজ ক্ষমতায় এসেছে।

জামায়াত আমির আরও বলেন, প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটারের ‘হ্যাঁ’ যুক্ত ছিল, কিন্তু বিএনপি সেই ভোটকে অবজ্ঞা ও অপমান করেছে। আমরা বিষয়টি সংসদে তোলা হয়েছিল। তবু সংসদের কাজকর্ম এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে বিরোধী দলকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। বৈষম্যের বিরুদ্ধে চলা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটেও বিরোধী পক্ষকে সংসদে বৈষম্যের শিকার বলে দাবি করেন তিনি।

তবে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রতি জামায়াত অনড় রয়েছে; তারা রাজপথেও তাদের অবস্থান জানিয়েছে এবং আশা করেন সরকারি দল জনমতের প্রতি সম্মান জানাবে।

সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সরকারি দল অনেক অধ্যাদেশ বাতিল করলেও, জনগণ সংস্কারের ম্যান্ডেট দিয়েছেন—সংশোধনের নয়—এমন মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি আলোচনা-আলাপ করা হচ্ছে এবং তিনি আশাবাদী যে এসব সংস্কার সুস্থ রাজনৈতিক ধারাকে ফিরিয়ে আনবে; না হলে দেশ আবারও বিপদে পড়বে।

বাজেট বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা আগে থেকেই একটি ছায়া বাজেট পেশ করেছিলাম এবং বাস্তবে যেটা এসেছে, তা আমাদের অনুমানের সঙ্গে মিলেছে। কিছু বিষয়ে—যেমন কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বন্ধ করা—বিরোধী দলের আপত্তি সরকার বিবেচনায় নিয়েছে। আমরা সাধারণত জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্থবর্ষ চেয়েছিলাম, কিন্তু সে বিষয়ে কোনো সমাধান পাইনি।

তিনি বলেন, সরকার বলেছেন এটি ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট; বড় বাজেট অপরাধ নয়, কিন্তু বাস্তবায়ন সক্ষমতা ও দুর্নীতি রোধ করাই বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্নীতি বন্ধ না হলে আবারো অর্থ বিদেশে পাচার হবে।

ব্রিফিংয়ে তিনি MPs-দের সরকারি ফ্ল্যাট সংক্রান্ত প্রশ্নেও কথা বলেন। জানান, তারা ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, কিন্তু ফ্ল্যাট না নেওয়ার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এছাড়া ফ্ল্যাট সাধারণত এমপিদের পূর্বনির্ধারিত বসবাসের সময়সীমার জন্য দেওয়া হয়, সম্পূর্ণভাবে ‘দিতে দেয়া’ হয় না—তিনি এ মন্তব্যটি স্পষ্ট করেন।

জামায়াত আমির বলেন, ১৯৯১ সালে জাতীয় স্বার্থে সরকার গঠনে তারা বিএনপিকে সহযোগিতা করেছিল। একই সঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে তিনি জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ও জুলাই ফাউন্ডেশন নিয়ে কোনো তৎপরতা চালাচ্ছেন না।