শুক্রবার, ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

স্যুটকেস থেকে নাতালিয়া ভিয়ালবারের মরদেহ উদ্ধার; ব্রিটিশ নাগরিক গ্রেপ্তার

কলম্বিয়ার একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট থেকে জনপ্রিয় মডেল ও ইনফ্লুয়েন্সার নাতালিয়া ভিয়ালবার (৩৬) এর মরদেহ একটি স্যুটকেসের ভেতরে পাওয়া গেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাতালিয়া ওই ঐতিহ্যবাহী উত্তরের এলাকা এল চিকোর একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে গত ৩ জুন থেকে থাকছিলেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এল পাইসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাতালিয়ার চেক‑আউটের দিন ছিল ২১ জুন। তবে পরদিনেই এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে স্যুটকেসের ভেতর ভরা একটি মরদেহ দেখতে পান এবং ঘটনাটি জানালে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের এক পর্যায়ে ৪৬ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক ম্যাথিউ অ্যাশলি ফস্টার‑স্মিথকে গ্রেপ্তার করা হয়। কলম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ২৬ জুন জানায়, তাকে নারী হত্যা (ফেমিসাইড) ও প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে আটক করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ বলছে, নাতালিয়া একা থাকার সময় ফস্টার‑স্মিথ তাঁর অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করেন, সেখানে শারীরিক নির্যাতনের পর তাকে হত্যা করা হয় এবং পরে মরদেহ স্যুটকেসে ভরে ঘটনাস্থল আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছে, ঘটনাস্থলও বিকৃত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

সন্দেহভাজনকে ধরতে কলম্বিয়া, ইকুয়েডর ও যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো যৌথ অভিযান চালায়; বোগোটার মেয়র কার্লোস এফ. গালানের জানানো মতে, ২৬ জুন ইকুয়েডরের রাজধানী কুইটো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফস্টার‑স্মিথকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা আগে ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য সানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ফস্টার‑স্মিথ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো যোগসূত্র অস্বীকার করেন এবং দাবি করেন, হত্যার সময় তিনি ইংল্যান্ডে এক ফুটবল ম্যাচ দেখছিলেন; পরে একটি শপিং সেন্টারে গিয়ে ঘোরাঘুরি, আইসক্রিম খাওয়া এবং পরে খেলা দেখতে ফিরে যাওয়ার কথা বলেছেন।

গ্রেপ্তারের পর ফস্টার‑স্মিথের অতীত অপরাধের তথ্যও উঠে আসে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে অনুসরণ ও হয়রানির (স্টকিং) অভিযোগে তিনি দুই বছরের বেশি সময় কারাভোগ করেছেন। মুক্তির পরে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তার বিরুদ্ধে একটি হয়রানি প্রতিরোধ আদেশ জারি করা হয়েছিল, যার ফলে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং নিজের ঠিকানা ও ব্যবহৃত যানবাহনের তথ্য নিয়মিত পুলিশকে জানানো বাধ্যতামূলক ছিল।

এদিকে নাতালিয়ার মৃত্যু নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে এবং হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি। এই ঘটনা কলম্বিয়ায় নারীবিদ্বেষী সহিংসতা এবং বিশেষ করে বিদেশি নাগরিকদের স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার আবাসনে নিরাপত্তা নিয়েও নতুন উদ্বেগ ছেড়ে যায়।

তথ্যসূত্র: এল পাইস, দ্য মিরর ইউএস, বিবিসি