শুক্রবার, ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেকর্ড ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে

সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে—মোট ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।

ব্যাংকের হিসাব মতে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-জুনের ১২ মাসে বৈধ চ্যানেলে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। এটা আগের অর্থবছরের ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলারের তুলনায় ৫২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার বেশি, যা প্রায় ১৭.৩ শতাংশ বৃদ্ধি। দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বেশি প্রবাহ আগে কখনো হয়নি।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কড়াকড়ি, বৈধ চ্যানেলে নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা ও ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধা বৃদ্ধির কারণে প্রবাসীরা আগের তুলনায় বেশি করে বৈধ পথে অর্থ পাঠাচ্ছেন। এসব কারণ মিলিয়ে এবছরের রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।

তবে অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রেমিট্যান্স প্রবাহ কিছুটা কমেছে। প্রাথমিক হিসাবে জুনে দেশে এসেছে ২৮০ কোটি ৬ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত সাত মাসের মধ্যে ন্যূনতম। গত বছরের একই সময়ের তুলনাতে জুনে রেমিট্যান্স কিছুটা কম দেখা গেলেও ব্যাংক ছুটির কারণে ১১টি ব্যাংকের তথ্য প্রাথমিক হিসাবের বাইরে ছিল; ফলে চূড়ান্ত পরিসংখ্যে এই অঙ্ক সামান্য বাড়তে পারে। গত বছরের অক্টোবরে তখনকার সর্বনিম্ন ছিল ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্চ-এপ্রিল-মে মাসগুলোতে ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা পরিবার-পরিজনের জন্য বাড়তি পাঠান। ঈদ শেষ হলে সেই প্রেরণ চাপ কমে যায়, ফলে জুনে স্বাভাবিকভাবে রেমিট্যান্সে কিছুটা স্রোতহ্রাস দেখা যায়।

মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সের চিত্রে দেখা গেছে: জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ডলার, মার্চে ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ডলার, এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার, মে মাসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং জুনে ২৮০ কোটি ৬ লাখ ডলার এসেছে।

রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে মোট গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) BPM6 পদ্ধতিতে নিট ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ রয়েছে ৩২ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার।

সারসংক্ষেপে, সরকারি নীতিমালা, ডিজিটালকরণ ও ব্যাংকিং সুযোগ বৃদ্ধির সমন্বয়ে প্রবাসী আয় বৈধ চ্যানেলে ফিরে এসেছে, যার ফলশ্রুতিতে চলতি অর্থবছরে রেকর্ড রেমিট্যান্স এবং শক্তিশালী রিজার্ভ দেখা গেছে।