শুক্রবার, ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পাপন আমলের ক্রিকেট সংক্রান্ত নথি তলব করেছে দুদক

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপন আমলের বিভিন্ন নথিপত্র তলব করেছে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছে দুদকের উপ-পরিচালক ও অনুসন্ধান দলের দলনেতা মোঃ সাইদুজ্জামানের সই করা চিঠি। চিঠির অনুলিপি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দফতরে পাঠানো হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে পাপন ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ নিয়ে একটি তিন সদস্যের অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছিল। সেই অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বিসিবিকে থেকে বিস্তৃত আর্থিক ও প্রকল্পসংক্রান্ত নথিপত্র তলব করা হয়েছে। চিঠিতে পূর্বাচলে স্টেডিয়াম নির্মাণ, কনসালট্যান্ট নিয়োগ ও বিপিএল খরচসহ বিসিবির বিভিন্ন প্রকল্প ও ব্যয়ের সার্বিক রেকর্ড পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

দুদক যে নথিপত্রগুলো বিশেষত চেয়েছে তাতে রয়েছে — পূর্বাচলে স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য কনসালট্যান্ট নিয়োগ সম্পর্কিত বিজ্ঞাপন, ইচ্ছা প্রকাশপত্র (EOI) ও প্রোপোজাল ডকুমেন্ট, মূল্যায়ন ক্রাইটেরিয়া ও মূল্যায়ন প্রতিবেদন, ওয়ার্ক অর্ডারের কপি, কনসালট্যান্ট নিয়োগের কস্ট এস্টিমেট এবং চুক্তিপত্রের কপি। এছাড়া ঠিকাদার নির্বাচন, কার্যাদেশ, বিল পরিশোধ সংক্রান্ত দলিলাবলি, জমি ক্রয় ও অধিগ্রহণ সম্পর্কিত নথিপত্রও তলব করা হয়েছে।

আরও অনুরোধ করা হয়েছে বিসিবির আয়-ব্যয় সংক্রান্ত অডিট রিপোর্ট, আইসিসি ও এসিসি থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ সংক্রান্ত নীতিমালা ও প্রমাণপত্র, লজিস্টিকস ও প্রটোকল সম্পর্কিত হিসাব, বিপিএল অনুষ্ঠানে খরচের বিশদ ব্যাখ্যা, বিদেশি কোচ নিয়োগের নীতিমালা ও তাদের সম্মানী/বেতন পরিশোধের রেকর্ড। পাশাপাশি ক্রিকেট সেলিব্রেটস ‘‘মুজিব ১০০’’ ও ২০১৯ সালের বঙ্গবন্ধু বিপিএলের নামে করা ব্যয়ের রেকর্ড, ভারতীয় সংগীতশিল্পী এ. আর. রহমানের কনসার্ট আয়োজন সংক্রান্ত নথিপত্র এবং কোন অডিট ফার্ম দ্বারা বিসিবির অডিট করানো হয়েছে ও তাদের বিল প্রদানের রেকর্ডও তলব করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, পাপন তাঁর সময়কালে বিসিবি ও সরকারি তহবিল থেকে অনিয়মভাবে অর্থ আত্মসাৎ করে নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে দেশে-বিদেশে ব্যাপক মূল্যবান সম্পদ গঠন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে যে বেক্সিমকোতে কর্মরত জামাতা ও অন্য সহযোগীদের মাধ্যমে হুন্ডি ও অন্যান্য উপায়ে বিদেশে অর্থ পাচার করা হয়েছে। এই অভিযোগগুলো তদন্তাধীন বলেই দুদক সূত্রে জানানো হয়েছে।