সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মোংলা বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত; চালবাহী জাহাজের খালাস বন্ধ

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবেই মোংলা সমুদ্রবন্দর ও সমগ্র উপকূলীয় এলাকায় তীব্র ঝড়ো আবহাওয়া বিরাজ করছে। রোববার রাত থেকেই আকাশ মেঘে ঢাকা এবং দফায় দফায় দমকা হাওয়া ও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে, ফলে সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল। আবহাওয়া অধিদপ্তর মোংলা বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে।

আবহাওয়া অফিসের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে যে সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ছিল তা এখন ঘনীভূত হয়ে মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। নিম্নচাপটি বর্তমানে মোংলা থেকে মাত্র কয়েকশো কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। আগ্রাসী বাতাসে সাধারণত গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার রয়েছে এবং খুঁপিয়ে দমকা বা ঝোড়ো আকারে এই গতি ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বন্দরে অবস্থানরত বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখন সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জেটি ও পশুর চ্যানেলে পণ্য খালাস ও পরিবহনের কাজ সীমিত পরিসরে চলছে; তবে খাদ্যবাহী জাহাজ—বিশেষ করে চালবাহী জাহাজগুলোর খালাস কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছে। আবহাওয়া আরও খারাপ হলে অন্যান্য ধরনের জাহাজের কাজও সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হতে পারে।

সাগর চরমভাবে উত্তাল হওয়ায় সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরের উপরিভাগে থাকা সব মাছধরা নৌকা ও ট্রলারকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলেদের সুন্দরবন ও গভীর সাগরে না গিয়ে উপকূলীয় কাছাকাছি সাবধানে চলাচল করার কঠোর অনুরোধ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই অনেক ট্রলার কানাইনগর, জয়মনী ও চিলা এলাকায় নদীতে আশ্রয় নিয়েছে।

নিম্নচাপটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার প্রভাবে বাগেরহাট জেলার মোংলা ও আশপাশের নিম্নাঞ্চলে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে কিছুটা বেশি জলোচ্ছ্বাস হওয়া এবং অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারবাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় থেকে সার্বিক পরিস্থিতি মনিটর করতে বলা হয়েছে।

জনসাধারণ বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের অনুরোধ করা হচ্ছে—অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলুন, সরকারি নির্দেশনা মেনে নিরাপদ স্থানে থাকুন এবং ত্রাণ-সাহায্য বা জরুরি অবস্থার খবরাখবরের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করুন।