সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেছি, সময়মতো প্রকাশ করব: জামায়াত আমির

বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ড. শফিকুর রহমান বলেছেন, তারা একটি ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেছেন। যদিও এটির সাংবিধানিক মর্যাদা নেই, তবু বিশ্বের অনেক স্থানে এ রকম সংগঠন রয়েছে এবং সময় হলে এটি প্রকাশ করা হবে। তিনি এসব কথা বলেন আজ বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে বাজেট আলোচনা বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে।

ড. শফিকুর বলেন, সংসদ যেন গান-বাজনার ক্ষেত্র না হয়—একে দায়িত্বশীল ও জনগণের সমস্যা সমাধানমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চান তারা। তিনি বলেন, ‘‘জনগণের সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে কথা বলা দরকার; একটি স্থিতিশীল সংসদ দরকার, এবং আমরা সেই দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করছি।’’

সরকার গণভোট না মানায় জাতীয় জীবনে সংকট সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, জামায়াত গণভোটের পক্ষে ছিল এবং বিএনপিও গণভোট চেয়েছিল। নিয়ম অনুসারে আমরা সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়েছি, কিন্তু বিএনপি তা করেনি—বিএনপি শপথ না নেওয়ার কারণ হিসেবে বলেছে সংবিধানে তা নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও ইঙ্গিত করেন, অতীতে সংবিধানে নথিভুক্ত না থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতায় ওঠার উদাহরণও আছে।

ড. শফিকুর বলেন, প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জানিয়েছে; কিন্তু বিএনপি তাদের ভোটকে উপেক্ষা ও অবমাননা করেছে। বিষয়টি তারা সংসদেও উত্থাপন করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে সংসদের আচার-ব্যবস্থাই এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে বিরোধীদের পর্যাপ্ত বক্তব্য করার সুযোগ দেয়া হয়নি। জুলাই মাসে বৈষম্যের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, অথচ সংসদে আজ বিরোধী দলই বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।

জামায়াত অবশ্য জনগণের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো থেকে সরে যায়নি বলে দাবি করে তিনি জানান, তারা রাজপথেও আন্দোলন করছে এবং আশা করেন সরকারি দল জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে।

সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে সরকারি দল বেশ কিছু অধ্যাদেশ বাতিল করেছে—এ প্রসঙ্গে বলেন জনসাধারণ যদি সংস্কারের ম্যান্ডেট দেয়, তা সংশোধনের জন্য নয়। তিনি বলেন, আলাপ-আলোচনা চলছে; আশা করছেন এসব সংস্কার সুস্থ রাজনৈতিক ধারাকে ফিরিয়ে আনবে, নতুবা দেশে পুনরায় সংকট দেখা দেবে।

বাজেট সম্পর্কে তিনি বলেন, বিরোধী দল হিসেবে তারা একটি ছায়া বাজেটও পেশ করেছিল—প্রত্যাশা অনুযায়ী বাজেট হয়েছে। কিছু আপত্তিকর বিষয়ে সরকারি দল বিরোধীদের কথা গুরুত্ব দিয়েছে, যেমন কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল। জামায়াত জানায়, তারা অর্থবছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর করার প্রস্তাব তুলেছিল, কিন্তু সে বিষয়ে কোনো সমাধান পায়নি।

সরকার বলেছেন এটি ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট—বড় বাজেট হওয়া অপরাধ নয়, তবে বাস্তবায়ন সক্ষমতা ও দুর্নীতি রোধই বড় চ্যালেঞ্জ, মন্তব্য করেন ড. শফিকুর। তিনি সতর্ক করে বলেন, দুর্নীতি বন্ধ না হলে again বিদেশে টাকাপাচার চলেই যাবে।

সংসদের ব্রিফিংয়ে জামায়াত এমপিদের সরকারি ফ্ল্যাট নেওয়া নিয়ে প্রশ্নে তিনি জানান, দল ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও প্লট না নেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, কিন্তু ফ্ল্যাট না নেয়ার কথা বলা হয়নি। এছাড়া ফ্ল্যাট স্থায়ীভাবে দেয়া হয় না; এমপিদের থাকার জন্য তা সাময়িকভাবে বরাদ্দ করা হয়।

সভায় তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৯১ সালে জাতীয় স্বার্থে জামায়াত বিএনপিকে সরকার গঠনে সহযোগিতা করেছিল। একই সঙ্গে বলেন, বর্তমানে তিনি ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ ও ‘জুলাই ফাউন্ডেশন’ নিয়ে নিজে কোনো সক্রিয় কার্যক্রম চালাচ্ছেন না।