বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সমাজ বদলাতে দরকার সৎ ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব: জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও মহানগর কর্মপরিষদ সদস্যদের অংশগ্রহণে রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে তিনদিনব্যাপী একটি শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২ জুলাই শুরু হওয়া এই কর্মশালা শনিবার (৪ জুলাই) সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াত আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দেশের ও সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য সৎ, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। ব্যক্তিগত সততা, নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা সবসময় নেতৃবৃন্দের পরিচয় হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শিবিরে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ড. মাওলানা ছামিউল হক ফারুকীর সঞ্চালনায় ধারাবাহিকভাবে বক্তব্য দেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আলোচনা ও দিকনির্দেশনা দেন।

ডা. শফিকুর রহমান স্মরণ করিয়ে দেন যে উপমহাদেশে মুসলমানরা নানা ঐতিহাসিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৮৬ বছরের পথচলায় অসংখ্য নেতাকর্মী ত্যাগ ও আত্মোৎসর্গ করেছেন। আল্লাহর পথে ত্যাগীদের সেই অবদান জাতির কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে — এটাই তার আহ্বান ছিল।

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আল্লাহকে একনিষ্ঠতা ও খাঁটি نীয়ত (ইখলাস) নিয়ে স্মরণ করতে হবে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, নীতি-নৈতিকতা ও আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার চেতনা সংগঠনকে শক্তিশালী করেছে; তবু দীর্ঘদিনের সুনাম ছোটো একটি ভুলেই ক্ষুণ্ণ হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

ভাষণে তিনি উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশের মুসলিমদের দুরবস্থা তুলে ধরে বলেন, ভারতের মুসলমানরা নিরাপত্তা, প্রাণ-সম্পদ ও সম্মানের নিরাপত্তা নিয়ে বিচলিত, এবং ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরেও মুসলমানরা নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি আছে বলে মন্তব্য করেন।

জামায়াতের সামনে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুসলমানরা সত্ত্বেও অনেক সময় তাদের সাম্প্রদায়িকভাবে আখ্যায়িত করা হয়। তদুপরি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন—সংরক্ষিত নারী আসনসহ জামায়াতে ইসলামীর ৯০ জন প্রতিনিধি বর্তমানে সংসদে রয়েছেন—এটি জনগণের দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যাশার প্রতিফলন বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন। (উল্লেখ্য: এই সংখ্যাটি বক্তব্যে বলা হয়েছে।)

ডা. শফিকুর আরও বলেন, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ক্ষমতা অর্জনের চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকেই প্রধান লক্ষ্য রাখতে হবে। ব্যক্তি জীবনেও আত্মশুদ্ধি জরুরি; ভেতরের নেতিবাচক প্রবণতাকে দমন করতে হবে।

তিনি কুরআন-মাওলানার অধীনে জীবনযাপন ও মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করলে মানুষ পথভ্রষ্ট হবে না বলে আশ্বাস দেন এবং পরিবার, সংগঠন ও সমাজকে শক্তিশালী করতে নারী-পুরুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। নারীদের সম্মান বজায় রেখে দ্বীনি কাজে তাদের সম্পৃক্ত করার আহ্বানও জানান।

স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমাজ থেকে সৎ, মানবিক, হালাল উপার্জনকারী ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা উচিত। দায়িত্বশীল ও যোগ্য নেতৃত্ব গড়ার লক্ষ্যে কর্মীদের মূল্যায়ন ব্যক্তিগত মর্যাদা না দেখে যোগ্যতার ভিত্তিতেই করতে হবে।

বক্তব্যের শেষে ডা. শফিকুর রহমান কর্মপরিষদের সদস্যদের তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি স্থানীয় আমীরদের সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটি সমাপনী দোয়া ও মিলাদ-মাহফিলের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়।