বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সংসদে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল’ উত্থাপন, কমিটিকে তিন কার্যদিবসে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের দিকে সরকার এক ধাপ এগিয়েছে — জাতীয় সংসদে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সংসদে বিল পেশ করেন।

বিলটি পরে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। সংসদ থেকে কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে, যা প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করার নির্দেশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে ১৮ জুন মন্ত্রিপরিষদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিলটির খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সূত্রে বলা হয়েছে, ২০০১ সালে ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ গেজেটে প্রকাশিত হলেও তা বাস্তবে রূপ নেয়নি; ফলে দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর উদ্যোগটি কাগজেই সীমাবদ্ধ ছিল।

বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে প্রাথমিক পরিকল্পনার চেয়ে বিস্তৃত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে। তাই শুধুই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নয়, বরং বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, প্রকৌশল, কারিগরি, কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায় প্রশাসন, আইন, কৃষি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ বহুবিধ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা চালানোর সুযোগ রেখে প্রতিষ্ঠানটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করার প্রস্তাব বিলের মাধ্যমে আনা হয়েছে।

সরকার আগের আইনের সংশোধন করে এই নতুন বিল সংসদে উপস্থাপন করেছে। স্থায়ী কমিটির সুপারিশ সংগ্রহ ও প্রতিবেদন পেশের পর বিলটি আবার সংসদে ফিরিয়ে আনলে আইন পাসের পরই বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

বিল পাস হলে উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের শিক্ষাসংক্রান্ত প্রতীক্ষা পূরণে সহায়ক হবে বলে সরকারি সূত্ররা আশা প্রকাশ করেছে।