ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেসে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর টাইব্রেকারেই কলম্বিয়াকে কাঁদিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করলো সুইজারল্যান্ড। নিয়মিত সময় ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে গোলশূন্য ড্র হয়ে যাওয়া ম্যাচে পেনাল্টি শুট‑আউটে ৪–৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় লাল-সাদারা দলটি। তাদের পরের প্রতিপক্ষ হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা; ১২ জুলাই কানসাস সিটিতে শতকরা এক কোর্তে সেমিফাইনালের লড়াইয়ে দেখা হবে তাদের।
নিয়মিত ৯০ এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও কোনো দলই জালে বল পাঠাতে পারেনি। প্রথমার্ধে কিছুটা আধিপত্য দেখিয়েছিল কলম্বিয়া, কিন্তু গ্রেগর কোবেলকে হারাতে পারেনি তাদের ফরোয়ার্ডরা। দ্বিতীয়ার্ধে সুইসরা ফাবিয়ান রিডার ও দান এনদোর মধ্য দিয়ে চাপ বাড়ালেও কলম্বিয়ার রক্ষণ কাঠামো ও সতর্ক গোলরক্ষক কার্যকরিত্বের কারণে গোল হয়নি।
অতিরিক্ত সময়ে কলম্বিয়ারই বেশ কয়েকটি বড় সুযোগ গড়ে উঠেছিল। ৯৯ মিনিটে হুয়ান ফের্নান্দো কুইন্তেরোর কর্নার থেকে জন লুকুমির হেড ক্রসবারে লেগে ফিরেছিল। ১০১ মিনিটে জামিন্তন কাম্পাসের এক শক্তিশালী শট অসাধারণভাবে প্রতিহত করেন কোবেল, আর ১১৬ মিনিটে কাম্পাস একলা পেয়ে যেকোনো ভাবেই জালে ঠুকতে পারলে ম্যাচ ঘুরে নিতে পারত—তবু সেই শট বারের ওপরে উড়ে যায়। অতএব অতিরিক্ত সময়ও গোলশূন্য থেকেই শেষ হয়।
টাইব্রেকারে উত্তেজনা নিজের চরমে পৌঁছায়। কুইন্তেরো প্রথম শটে গোল করে কলম্বিয়ার দিকে আস্থা বাড়ালেও সুইসরা জবাবে গ্রানিত জাকার পেনাল্টি দিয়ে সমতা ফেরায়। কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার দাভিনসন সানচেসের শট ক্রসবারে লেগে ফিরলে বড় সুযোগ মিস করে তারা, আর সুইস ফরোয়ার্ড জ্যাকি আমদুনি গোল করে তাদের এগিয়ে দেন। ম্যানুয়েল আকাঞ্জির একটি শট বারের ওপরে নিয়ে যাওয়ায় কলম্বিয়ার সমতা পূরণের আশা নতুন করে জাগে, কিন্তু ‘কুচো’ হার্নান্দেসের শট কোবেল দুর্দান্তভাবে ছুড়ে ঠেকিয়ে দেন। লুইস দিয়াস একটি পেনাল্টি ইন করে কলম্বিয়ার আশা বাঁচান, তবু শেষ শটে রুবেন ভার্গাস ঠোঁটে ঠা করে জয়ী পেনাল্টি নিক্ষেপ করে সুইজারল্যান্ডকে ৪–৩ ফলে এগিয়ে দেয়।
এই জয়ের ফলে সুইজারল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে পরের স্টেজে প্রবেশের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে — যা তাদের জন্য ইতিহাস রচনার আরও এক বড় সুযোগ। ম্যাচটি ছিল প্রতিরক্ষা ও মানসিক দৃঢ়তার পরীক্ষাই, যেখানে একেকটি রক্ষা ও একেকটি ভুলই শেষ ফলাফল নির্ধারণ করেছিল।





