বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নাজাফে আয়াতুল্লাহ খামেনির শোক র‌্যালি: লাখো মানুষের ভিড়

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ ইরাকে পৌঁছানোর পর ইরাকের নাজাফে ব্যাপক শোক র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, র‌্যালিতে লাখো মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন।

ইরাকি বিভিন্ন মিডিয়া জানায়, ইরাকের পাশাপাশি আশপাশের দেশ থেকেও বহু অনুগামী র‌্যালিতে যোগ দিয়েছেন। কিছু সূত্র জানায়, উপস্থিতির সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে দুই লক্ষাধিক নয়—সম্প্রতি নাজাফে অনুষ্ঠিত শোক সমাবেশে ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) ২৩ লাখেরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণের কথা জানিয়েছে। আনুষ্ঠানিক দিক থেকে আল মায়াদিন টেলিভিশন কারবালা গভর্নরেটের বরাতে বলেছে, কর্তৃপক্ষ সেখানে শত অন্তত কয়েক লক্ষ—or—(৭০) লাখ মানুষের উপস্থিতি নথিভুক্ত করেছে।

আল-আহদ টিভির রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভোর হওয়ার আগেই হাজার হাজার অনুগামী নাজাফে এসে পৌঁছে রাস্তায় ও ইমাম আলীর মাজারের চারপাশে অবস্থান নেন; সবাই র‌্যালি শুরু হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। নাজাফের ইমাম আলীর মাজারে মরদেহ পৌঁছানোর পর সেখানে জাঁকজমকপূর্ণ শোক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয় এবং অনেকেই কফিন কাঁধে নিয়ে মিছিল করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল সাড়ে ছয়টায় নাজাফে শোক র‌্যালি শুরু হয়। মিছিলে মাজার থেকে কুফা সেতু ও থাওরাত আল-আশরিন চৌরাস্তা হয়ে আল-সাদরিন স্কয়ারের দিকে অগ্রসর হয়ে পরে কফিনটি কারবালার দিকে যাত্রা করে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জাইদিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, খামেনির দাফন প্রক্রিয়ার কারণে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি বিমানবন্দরে খামেনির মরদেহ গ্রহণ করেছেন।

একাধিক দেশে এবং ইরানের বিভিন্ন শহরে মৃত নেতাকে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে: গত শুক্রবার তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় বিদেশি গণ্যমান্য ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা শ্রদ্ধা জানান; শনিবার ও রবিবার তা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল। সোমবার তেহরানে মহাদেশজুড়ে বড় শোক র‌্যালি ও ছাড়বহিভাবে উদ্‌যাপন হয় এবং মঙ্গলবার কোমের জামকারান মসজিদেও লক্ষাধিক অনুগামী শেষ জানাজায় অংশ নেন।

খামেনির ইচ্ছানুযায়ী ধন্যস্থান হিসেবে রয়েছেন তিনি মানবিকভাবে ইরানের উত্তর-পূর্ব মাশহাদ শহরে, অষ্টম শিয়া ইমাম রেজার (রা.) মাজারে সমাহিত হবেন; তার শেষ জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানের সময়সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার কফিন মাশহাদে নেওয়া হবে।

সূত্র: প্রেস টিভি, ইরাকি গণমাধ্যম এবং আল মায়াদিন টিভি।