রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত খুলনা গঠনে নাগরিক মতামতকে অগ্রাধিকার

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)-এর চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা বলেছেন, পরিবেশবান্ধব, জনবান্ধব ও পরিকল্পিত খুলনা গড়ার পথে নাগরিকদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। নগর উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণে জনগণের চাহিদা ও পরামর্শকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে কেডিএ আয়োজিত ‘আগামীর খুলনা বিনির্মাণে কেডিএ ও জনগণের ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, খুলনার উন্নয়নে সবচেয়ে বড় অংশীদার হল নগরবাসী। তাই নতুন প্রকল্প গ্রহণ, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং বিদ্যমান সমস্যার সমাধানে নাগরিকদের সুচিন্তিত মতামত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে। সভায় পাওয়া প্রতিটি পরামর্শ লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চেয়ারম্যান বলেন, দৌলতপুরের কল্পতরু মার্কেট নির্মাণের পর তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে সেই ভবন অপসারণ করে সেখানে একটি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শহরে একটি আধুনিক জিমনেশিয়াম স্থাপনের উদ্যোগও আছে, যা খেলাধোলা ও তরুণ প্রজন্মের ব্যস্ততা কাজে লাগাবে।

ফুলবাড়িগেট এলাকায় রেললাইনের পারাপারে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে এবং প্রাণহানি ঘটছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সেখানে একটি ওভারপাস নির্মাণ করা হবে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় পরিকল্পিত বাণিজ্যিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা থাকায় কেডিএ এসব দিকও খতিয়ে দেখছে। বর্তমানে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালকে শহরের কেন্দ্র থেকে সরিয়ে কারাগারের পেছনের বিস্তৃত এলাকায় স্থানান্তরের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে—যা যানজট ও নিরাপত্তার সমস্যার সমাধান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেডিএ চেয়ারম্যান আরও জানান, নওয়াপাড়ায় একটি শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে কোরীয় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আছে। নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলমান এবং প্রয়োজনীয় আবেদন প্রক্রিয়াও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তিনি জানান, কেডিএকে একটি জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতি তিন মাস অন্তর নাগরিকদের সঙ্গে উন্মুক্ত মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হবে। এসব সভায় পাওয়া অভিযোগ, পরামর্শ ও চাহিদা পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও দেশের নানা স্থানে বন্যা পরিস্থিতি ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি বলে কেডিএ চেয়ারম্যান জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আমির এজাজ খান, কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা পরিষদ প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী, বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আব্দুল্লাহ হারুন, কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এবং ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান।

অতিথি ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. হারুনর রশিদ খান, খুলনা প্রেসক্লাব সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার, সিনিয়র সাংবাদিক দিদারুল আলম, বিসিবি’র পরিচালক মোঃ শফিকুল আলম তুহিন প্রমুখ।

শফিকুল আলম মনা বলেন, জনমতকে কাজে লাগিয়ে যদি পরিকল্পনা ভিত্তিক উন্নয়ন করা যায়, তা হলে খুলনা হবে আরও পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও বসবাসবান্ধব—a vision that will benefit present and future generations. (কেডিএ সূত্র)