বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাড়ানোর ৩ দিনের মাথায় আবারও একই পরিমাণ কমল স্বর্ণের দাম

দেশের স্থানীয় বাজারে তীব্র ওঠানামার মধ্যে আবারও স্বর্ণের দাম কমেছে — গত ১০ জুলাই করা বাড়ানোর ঠিক তিন দিন পর একই পরিমাণ (প্রতি ভরি ২ হাজার ২১৬ টাকা) দাম কমানো হলো।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, স্থানীয় তেজাবি (পাকা) স্বর্ণের দর কমে যাওয়ায় সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে নতুন মূল্য কার্যকর করা হয়েছে। বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি থেকে তা জানানো হয়।

নতুন মূল্য অনুযায়ী (প্রতি ভরি = ১১.৬৬৪ গ্রাম):

– ২২ ক্যারেট স্বর্ণের গহনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা।

– ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম ২ হাজার ১০০ টাকা কমিয়ে হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা।

– ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা।

– সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা।

বাজুস জানিয়েছে, এর আগেও দুই দফা দাম কমানোর পর ১০ জুলাই ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের গহনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছিল—তাই তিন দিনের মধ্যেই আবার একই পরিমাণ দাম কমানোর অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটলো।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দর সংশোধন করা হয়েছে মোট ৯০ দফায়; এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৪৪ দফা, কমানো হয়েছে ৪৫ দফা এবং ১ দফায় ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। তুলনামূলকভাবে গত বছর (২০২৫) স্বর্ণের দর ৯৩ দফা সমন্বয় করা হয়েছিল — তাতে ৬৪ দফা বাড়ানো ও ২৯ দফা কমানো হয়েছিল।

রুপার গহনার দামও ভ্যাটসহ নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন হিসেবে:

– ২২ ক্যারেট রুপার গহনার এক ভরি দাম ১১৭ টাকা কমে ৪ হাজার ৬০৭ টাকা।

– ২১ ক্যারেট এক ভরি ১৭৫ টাকা কমে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা।

– ১৮ ক্যারেট এক ভরি ১১৬ টাকা কমে ৩ হাজার ৭৯১ টাকা।

– সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার গহনার দাম ৫৮ টাকা কমে ২ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রুপা বিষয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ৫৬ দফা দর সমন্বয় করা হয়েছে — যেখানে ২৮ দফায় দাম বাড়ানো এবং ২৮ দফায় দাম কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল; তাতে ১০ বার বেড়েছিল এবং মাত্র ৩ বার কমে।

বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দরের দ্রুত ওঠানামা ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তারা মূল্যবৃদ্ধি-হ্রাস পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তীতে আরও সিদ্ধান্ত নেবে।