বললেন আমির খান—থ্রি ইডিয়টসের র্যাঞ্চো চরিত্রটি সোনম ওয়াংচুকের জীবনী থেকে নেওয়া হয়নি। লন্ডনের ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে উন্নত মনোভাব নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় এই দাবি করেছেন তিনি।
বর্তমানে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও প্রশ্নফাঁসকাণ্ডের তদন্ত দাবি করে আমরণ অনশনে থাকা সোনম ওয়াংচুককে কেন্দ্র করে আগে থেকেই চলছিল এই বিতর্ক। অনেকেই মনে করেন থ্রি ইডিয়টস ছবির র্যাঞ্চো বা ফুংসুখ ওয়াংড়ুর চরিত্রটি সোনমের কাজের অনুকরণ। কিন্তু আমির জানিয়েছেন, সিনেমাটি তৈরির সময় তিনি বা চিত্রনাট্যকাররা সোনম ওয়াংচুক সম্পর্কে জানতেনই না।
সম্প্রতি ছবিটির অভিনেতা ওমি বৈদ্য (চতুরের ভূমিকায়) সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে বলেন, র্যাঞ্চোর চরিত্রটি সোনমের জীবনী থেকে অনুপ্রাণিত। এই দাবি প্রসঙ্গে আমির সরাসরি বলেছেন, ‘চতুরের দাবি ভুল।’
লন্ডন-ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সমাপনী অনুষ্ঠানে এক দর্শকও সোনমের প্রসঙ্গ তুলে দাবি করেন যে থ্রি ইডিয়টস তাকে অনুপ্রাণিত করেছে এবং ছবির কাহিনি সোনমের কাজে ভিত্তি করে তৈরি। আমির জবাবে বলেন, ‘‘এটি একটি ভুল ধারণা। আমরা যখন থ্রি ইডিয়টস করছিলাম, তখন সোনমের কথা জানতাম না। পরে যখন সোনমের নাম সামনে আসে, তিনি নিজেরাই বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন।’’
সোনম ওয়াংচুকও আগে বলেছিলেন যে ছবির নির্মাতারা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি কিংবা অনুমতি নেয়নি। ২০০৮ সালের এক অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমবার সরাসরি আমিরের সঙ্গে কথা বলেন—সেখানে তিনি সিয়াচেনের ব্যয় ও শিক্ষায় অর্থ বিনিয়োগের বিষয়ে একটি প্রস্তাব তুলে ধরেন, যা আমিরের মনে হয়েছে আকর্ষণীয়। কিছুদিন পর সোনম ফ্রান্স চলে যান এবং পরের বছর থ্রি ইডিয়টস মুক্তি পায়; এরপর থেকেই কিছু লোক র্যাঞ্চো ও সোনমের মধ্যে মিল খুঁজে পান।
সোনম জানান, তিনি প্রথমে কোনো আপত্তি জানাতে আগ্রহী হননি কারণ অনেকে হয়তো ভাববেন তিনি নির্মাতাদের কাছ থেকে আর্থিক দাবি করছেন। পরে কাহিনীর স্বত্ব সংক্রান্ত আইনি সময়সীমা শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করেন এবং পরে নির্মাতাদের কাছে একটি চিঠি পাঠান, যেখানে ছবির নির্মাণের আগে আমিরের সঙ্গে তাঁর আলাপের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল—কিন্তু নির্মাতারা কোনো উত্তর দেননি।
এ বিতর্কে সকল পক্ষের বক্তব্য স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত সমালোচনা ও গুঞ্জনের অবসান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।





