খুলনা মহানগরীর জাতিসংঘ শিশুপার্ক এলাকার সামনে সাংবাদিকদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনায় খুলনা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা দুইজনকে আসামি করে দণ্ডবিধির ৩২৬ ও ৩০৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তানজির রহমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম নির্দেশে গতকাল রাত ৯টায় অভিযোগটি রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৪ জুলাই দিবাগত রাতে এসআই তানজির রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মোবাইল টহলে ছিলেন। রাত প্রায় ১২টা ১৫ মিনিটে ওয়্যারলেস বার্তার মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, জাতিসংঘ শিশুপার্কের পশ্চিম পাশে আবদুল জলিল শেখের পানের দোকানের সামনে গুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে একসঙ্গে সাংবাদিকরা আহত হয়েছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী রাত আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিট থেকে ১২টা ১০ মিনিটের মধ্যে ওই পানের দোকানের সামনে সাংবাদিক আওয়াল শেখ, সৈয়দ হুমায়ুন কবির রানা, রকিবুল ইসলাম মতি, রফিউল ইসলাম টুটুল ও খুলনা সদর থানা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক লেলিন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলছিলেন।
তৎক্ষণিকভাবে একটি মোটরসাইকেল যোগে সাঁতরাস্তার মোড়ের দিকে থেকে এসে অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তি তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ছোঁড়া গোলিগুলোর একটি রকিবুল ইসলাম মতির কাছাকাছি বসা কোনো বস্তুকে আঘাত করে এবং এরপর সেটি সাংবাদিক আওয়াল শেখের বুকের ডান পাশ স্পর্শ করে বেরিয়ে যায়; এতে আওয়াল শেখ আহত হন।
গুলিবর্ষণের পর হামলাকারীরা দ্রুত মোটরসাইকেলে শান্তিধাম মোড়ের দিকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আহত আওয়াল শেখকে দ্রুত ইসলামী ব্যাংক হাসপাতলে নিয়ে যান, সেখানে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
এস আই তানজির রহমান এজাহারে উল্লেখ করেছেন, আকস্মিক এই হামলায় ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকরা ভয় পেয়ে বিব্রত হয়েছিলেন। ঘটনাস্থলের তাত্ক্ষণিকভাবে মামলা দায়ের করা সম্ভব হয়নি কারণ ভুক্তভোগী ও উপস্থিতদের মধ্যে প্রথমে মামলা করতে অনীহা দেখা দেয়। পরে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় মামলা করা হয়।
খুলনা সদর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া গুলির খোসা ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলায় জড়িত অজ্ঞাত দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে।





