খুলনায় ‘অরফ্যান কেয়ার প্রোগ্রাম-২৬’ অনুষ্ঠানে ২৬ জন এতিম শিশুকে খাদ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে। সোমবার সোনাডাঙ্গাস্থ রহুমা সমাজকল্যাণ সোসাইটি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রত্যেক শিশুকে তিন মাসের জন্য খাদ্যপণ্যসহ হাইজিন কিট, শিক্ষাসামগ্রী, ক্রীড়া উপকরণ, পোশাক এবং মৌসুমি ফল প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানটি জাতীয় মানবিক উন্নয়ন সংস্থা ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভের সহযোগিতায় এবং মুসলিম এইড অস্ট্রেলিয়ার অর্থায়নে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন সাংবাদিক রাশিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির সফরে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর খুলনা জেলা প্রতিনিধি মুহাম্মদ নূরুজ্জামান। স্থানীয় সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গও অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে শিশুদের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করছিলেন এস এ মুকুল।
বিতরণকৃত খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ছিল জনপ্রতি ৩০ কেজি চাল, ৬ লিটার সয়াবিন তেল, ৩ কেজি মসুর ডাল, ৩ কেজি চিনি, দেড় কেজি মিল্ক পাউডার, তিন জার হরলিক্স, তিন প্যাকেট নুডলস, দেড় কেজি বাদাম, তিন জার বিস্কুট, ৬ কেজি মৌসুমি ফল এবং তিন বক্স চকলেট। এসব খাদ্যসামগ্রী এপ্রিল থেকে জুন—এই তিন মাসের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।
হাইজিন প্যাকে ছিল টুথব্রাশ, টুথপেস্ট, সাবান, চিরুনি, নেইল কাটার, হ্যান্ডওয়াশ, বডি লোশন ও পেট্রোলিয়াম জেলি। শিক্ষা উপকরণ হিসেবে শিশুদের দেওয়া হয় বই, খাতা, পেন্সিল, কলম, রঙিন পেন্সিল, পেন্সিলবক্স, আর্ট বই, আর্ট ফ্রেম, স্কুলব্যাগ, ছাতা ও নবী-রাসূল সিরিজের বইসহ অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রী।
পৌষ্টিকতা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই সেবা প্রদান করা হয়েছে বলে আয়োজকরা জানান। পাশাপাশি ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথকভাবে বছরে একবার করে নতুন পোশাক, স্কুল জুতা ও মোজা বিতরণেরও ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম শিশুদের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। তারা আরও উল্লেখ করেন যে, শিশুদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শিক্ষার সঙ্গে সংযুক্ত বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে শুধুমাত্র সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়—বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে এসে কাজ করতে হবে।
ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভ ২০২৩ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় ‘অরফ্যান কেয়ার প্রোগ্রাম’র আওতায় এতিম শিশুদের জন্য খাদ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসামগ্রী বিতরণসহ নানা মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এই প্রোগ্রামও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।





