ভারতের উত্তরে অবস্থিত আসামের ১৬ জেলায় তীব্র বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে; এতে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু এবং ৩ লক্ষ ৬২ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ রাজ্যের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মোট ৭৯৪টি গ্রামে পানি ঢুকে আগের রাত থেকেই পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে খারাপ হচ্ছে।
সবচেয়েই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলা তিনটি — শিভাসগর (১,৫৭,৭২৭ জন), চারাইদেউ (১,০৪,৪১৫ জন) ও জোরহাট (৫০,৯৮৭ জন)। বন্যার প্রভাব পড়েছে আরও: ডিব্রুগড়, সনিতপুর, বিশ্বনাথ, গোলাঘাট, ধেমাজি, নাগাঁও, কারবি আঙলং, কাছাড়, উদলগুড়ি, চিরাং, কামরূপ ও কামরূপ মেট্রো।
আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ) জানায়, উপরের আসামের অনেক আবাসিক এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। সড়ক যোগাযোগের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় ১৯ হাজার ১০০ হেক্টর জমির ফসল পানির নীচে তলিয়ে গেছে। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ব্রহ্মপুত্র, বুরহিদিহিং, দিসাং, ধানসিড়িসহ রাজ্যের বেশিরভাগ নদীর পানি বিপদসীমার অনেক ওপরে পৌঁছে গেছে — এ কারণেই এই তীব্র বন্যা দেখা দিয়েছে।
এএসডিএমএ জানিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় মোট ১০১টি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ৯ হাজার ৬০৬ জন আশ্রয় নিয়েছেন। উদ্ধারকাজে কেন্দ্রীয় দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এনডিআরএফ), আসাম রাজ্যের স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এসডিআরএফ), সেনাবাহিনী ও দমকলকর্মীদের যৌথ টিম সক্রিয় রয়েছে এবং আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার করতে কাজ করছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীরা এমার্জেন্সি ত্রাণ ও ভবিষ্যতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে আপডেট পাওয়ার অপেক্ষায় স্থানীয়রা চলমান বন্যার প্রভাব ও ক্ষতির পূর্ণ হিসাব সংগ্রহের চেষ্টা করছে।
সূত্র: এনডিটিভি অনলাইন





