চলতি বছরের আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতা, যেখানে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করবেন ২৪ বছর বয়সী অনিকা জামাল ইকবাল। অনিকা সম্প্রতি ‘মিস ওয়ার্ল্ড পাকিস্তান’ খেতাব জিতে এই প্রতিযোগিতায় দেশের পতাকা বহন করতে যাচ্ছেন।
পাকিস্তান দীর্ঘ ৭৪ বছর পরে প্রথমবার বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চে পা রাখছে বলে ইতিহাসে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাশাপাশি ‘মিস পাকিস্তান ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন’ জানিয়েছে, তাদের সংস্থার পক্ষ থেকে এটি ২৫ বছরে প্রথমবারের মতো এমন একটি মাইলফলক। সংস্থার প্রধান সোনিয়া আহমেদ এই ঘটনা পাকিস্তানের জন্য ‘‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
অনিকা সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় নতুন কোনো নাম নন— তিনি আগে থেকেও ‘মিস আর্থ’, ‘মিস গ্লোবাল’, ‘মিস কসমো’, ‘মিস ইকো ইন্টারন্যাশনাল’ ও ‘মিস অরা ইন্টারন্যাশনাল’সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। কসমোতে অনুষ্ঠিত ‘ফ্রিডম অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতায় অনিকা চারটি খেতাব জিতেছেন।
শিক্ষার কথা বললে, অনিকা এখন পাকিস্তানের দানিস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাকাউন্টিং ও অডিটিং নিয়ে স্নাতকোত্তর করছেন— তাঁর পড়াশোনা এখনও চলমান।
সৌন্দর্যখেতাবের বাইরে অনিকা সমাজসেবায় অধিক মনোযোগী। তিনি ‘বিউটি উইথ পারপস’ নামে একটি প্রকল্প চালান, যার মূল উদ্দেশ্য দেশের থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সহায়তা করা। নিজ উদ্যোগের পাশাপাশি তিনি লাহোরের কয়েকটি দাতব্য সংস্থায় দীর্ঘমেয়াদী রোগে ভোগা মানুষদের সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবী কাজ করেন।
অনিকা বলেন, বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চ তাঁর কাছে কেবল সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতার জায়গা নয়— এটি একটি প্ল্যাটফর্ম যার মাধ্যমে দেশের থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য আর্থিক ও সামাজিক সহায়তা জোগাড় করতে চান তিনি। মঞ্চে গিয়ে তিনি এসব বিষয়ের ওপরও আলোকপাত করবেন বলে জানান।
পাকিস্তানের মতো এক বাস্তবে যেখানে মডেলিং পেশা গ্রহণ করা সবসময় সহজ নয়, অনিকা জানেন সম্ভাব্য প্রতিকূলতা ও সমালোচনা থাকতে পারে। তবু তিনি এসব নিয়ে উদ্বিগ্ন নন; বর্তমানে ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় ভালোভাবে নিজেকে উপস্থাপন করাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।
অনিকার পরিবার তাঁর এই সাফল্যে গর্বিত। মা-বাবা সব সময়েই মেয়ের ইচ্ছার পাশে থেকেছেন এবং কখনও তাঁকে বাধ্য করেননি। এখন সবার সমর্থন নিয়ে অনিকা আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানের পরিচয় তুলে ধরতে যাচ্ছেন।





