সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাসংক্রান্ত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন আবারও পিছিয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন হিসেবে আগামী ২৭ আগস্ট নির্ধারণ করেছেন। এ পর্যন্ত এই প্রতিবেদনের জমাদান ১২৮ বার পিছিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
আজ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করার কথা থাকলেও তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কোনো প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। পিবিআই প্রতিবেদন না দেওয়ায় ম্যাজিস্ট্রেট পুনরায় দিন ধার্য করেছেন। এই বিরতিই মামলার পারদর্শীদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের মধ্যে হতাশা ও প্রশ্নও বাড়িয়েছে।
এই মামলার ঘটনা ঘটে ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি, যখন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি নিহত হন। নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলানগর থানায় হত্যা মামলা করেন। শুরুতে তদন্তভার ছিল ওই থানার এক উপপরিদর্শকের (এসআই) কাছে। চার দিন পর মামলাটির তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-র কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ডিবি দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হলে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল তদন্তভার র্যাবকে দেওয়া হয়। পরে দীর্ঘ সময় চলা মামলার পুনর্গঠন ও জট নিয়ে ফের বিচারিক এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে পদক্ষেপ গৃহীত হয়।
২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এই মামলার তদন্ত দ্রুত ও ফলপ্রসূভাবে শেষ করতে নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্ট উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি টাস্কফোর্স গঠন করার নির্দেশ দেয়। ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করারও নির্দেশ দেওয়া হয় এবং তখন র্যাবকে তদন্তভার থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের টাস্কফোর্স দেওয়া হয়। এরপর ২২ অক্টোবর আদালত পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাস্কফোর্স প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হয় এবং সেটিই এখন পর্যন্ত ধারাবাহিক বিলম্বের কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। চলমান এই বিলম্ব ও বারবার স্থগিতাদেশ মামলার ন্যায়বিচার প্রত্যাশীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়িয়েছে। আগামী ২৭ আগস্ট নির্ধারিত দিন পর্যন্ত প্রতিবেদন না এলে আদালত কী ব্যবস্থা নেবে, সেটাই এখন নজরের কেন্দ্রবিন্দু।





