যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য পোস্ট’-এর বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিফার সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোকে জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিবেদনে প্রকাশিত সূত্র তাকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সামর্থ্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
৫৬ বছর বয়সী সুইজারল্যান্ডজন্মা ইনফান্তিনো এ বছর বিশ্বকাপ আয়োজনে ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেন বলে সংবাদে বলা হয়েছে। ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট রাখতে ইনফান্তিনোও নানা উদ্যোগ নিয়েছেন; গত ডিসেম্বর ট্রাম্পের হাতে ফিফার ইতিহাসে প্রথম ‘শান্তি পুরস্কার’ তুলে দেয়ার ঘটনাটি সেসব সম্পর্কেরই অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়। ট্রাম্পের আরও এক নিকটসূত্র মনে করেন, ইনফান্তিনোর বিশ্বে মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে এবং তিনি সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব।
বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই বছরের ডিসেম্বরে পদত্যাগ বা মেয়াদ শেষ করলে নতুন মহাসচিব নির্বাচিত হবেন। কোনো প্রার্থী নিশ্চিতভাবে মহাসচিব হওয়ার জন্য নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের সমর্থন (যেখানে স্থায়ী পাঁচ দেশের ভিটো ক্ষমতা আছে) এবং পরে সাধারণ পরিষদের অনুমোদন পেতে হয়।
তবে এখনও স্পষ্ট নয় যে ইনফান্তিনো নিজে এই পদ চাইছেন কি না, অথবা ট্রাম্প এ নিয়ে তাঁর সঙ্গে কতটা আলোচনা করেছেন। এক সূত্র ‘দুর্বল’ প্রার্থী তালিকা হিসেবে বর্তমান প্রার্থীদের একটি ফাঁক থাকা জানিয়েছে—এটিই ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবহার করে ইনফান্তিনোর সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে বলে জানা যায়।
প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে আছেন চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল বাচেলেত ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান আর্জেন্টিনীয় কূটনীতিক রাফায়েল গ্রোসি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাচেলেত যুক্তরাষ্ট্রের বাধার মুখে পড়তে পারেন এবং গ্রোসিকে যুক্তরাজ্য প্রায়ই ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আপত্তির আলোচনার ওপর রাখতে পারে।
আঞ্চলিক পর্যায়ে সাধারণত মহাসচিব নির্বাচন একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের পালাবার নিয়মে চলে—এইবার লাতিন আমেরিকা বা ক্যারিবীয় অঞ্চলের পালা ছিল—যা ইনফান্তিনোকে কেবল ভৌগোলিক কারণে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে রাখতে পারে। তবু সূত্রগুলো বলছে, কেবল অঞ্চলভিত্তিক নিয়ম দিয়ে ইনফান্তিনোর পথ রুদ্ধ হবে না; ট্রাম্পের সমর্থন পেলে তিনি আরও কিছু দেশের সমর্থনও টেনে আনতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
সমগ্র বিষয়টিই এখনও বিতর্কিত ও অনির্দিষ্ট; বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সবকিছুই গুজব বা কূটনৈতিক কল্পনার পর্যায়ে রয়েছে।





