খুলনায় আজ রোববার (৩০ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আদালতের সামনে এক ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রকাশ্যে দুজনকে ধারালো অস্ত্র ও গুলির মাধ্যমে মারাত্মকভাবে আঘাত করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে, যা পুরো এলাকাকে আতঙ্কে ঢেকে দিয়েছে।
নিহত দুজনের নাম হল ফজলে রাব্বি রাজন (২৮) এবং হাসিব (২৯)। রাজন রূপসার বাগমারার দক্ষিণ ডাঙ্গা এলাকার ইজাজ শেখের ছেলে এবং হাসিব নতুন বাজার এলাকার মান্নান হাওলাদারের সন্তান। এই দুজনই খুলনার স্পষ্টভাবে পরিচিত সন্ত্রাসী শেখ পলাশের অনুসারী বলে জানানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, আদালতে একটি অস্ত্র মামলায় হাজিরা দিতে এসে বিচারপ্রার্থী দুজনকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত গুলি করে ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এরপর তারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের মৃত্যু ঘোষণা করেন।
আদালত চত্বরে হত্যাকাণ্ডের পর কেন্দ্রীয় পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। পুলিশ নানা সরঞ্জামাদি দিয়ে স্থানটি স্যানিটারাইজ করেছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার শিহাব করীম এ সম্পর্কে বলেন, আচমকা এই ঘটনা ঘটেছে এবং নিহত দুজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি আরো জানান, ঘটনাস্থলে রক্তের দাগ, চাপাতি ও দুটি মোটরসাইকেল পড়ে আছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ষড়যন্ত্র তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অপর দিকে, মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার রোকনুজ্জামান জানান, আহতদের মধ্যে হাসিব ঘটনাস্থলে নিহত হন, আর রাজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যুবরণ করেন। এই দুজনেই সন্ত্রাসী পলাশের বাহিনীর সদস্য বলে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলাও রয়েছে। তারা আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো আদালত চত্বরের পরিবেশ আতঙ্কে ভরে যায়। আইনজীবীরা এই প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ জনমনে আতঙ্ক বেড়ে গেছে।





