বুধবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ নেবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

নতুন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর জন্য নতুন সরকার উদ্যোগ নেবে। তিনি জানান, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিনের অফিস শুরু করতে এসে সাংবাদিকদের তিনি এসব বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, সরকার এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আর জন্যে শ্রম দিচ্ছে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু হয়েছে এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কার্যপ্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি স্বীকার করে তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রথম সপ্তাহেই এই বিষয়ে চিঠি পাঠানোর প্রয়োজন নেই, তবে সরকার এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে।

রপ্তানির বর্তমান সময়ের ধীরগতির বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি প্রক্রিয়া এখনো সংকীর্ণ। দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ একমাত্র কিছু পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। এই দুর্বলতা কাটাতে হলে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে, নতুন পণ্য সংযুক্ত করতে হবে এবং নতুন বাজারের সন্ধান চালাতে হবে। এছাড়া, বেসরকারি খাতে যারা ব্যবসা ও বিনিয়োগ করতে চান, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

বিশ্ব বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে পরিবর্তনের কারণে বিশ্বে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ হিসেবে সীমিত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে টিকে থাকছে। তিনি বলেন, দেশের মার্জিন অব এরোর খুবই ক্ষুদ্র, যেখানে ভুলের সুযোগ কম। ফলে, গত কয়েক মাসে যে মন্থর গতিচলন দেখা গেছে, তা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসার জন্য সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।

রমজান উপলক্ষে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে। সরকার রমজান ও পরবর্তী সময়ের জন্য নিত্যপ্রয়োজনে ব্যবহৃত পণ্য পর্যাপ্ত মজুত ও পাইপলাইনে পণ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন, ফলে বাজারে কোনো আতঙ্কের সময় না।

রমজান মাসে বাজারে সিন্ডিকেটের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, তিনি শুধু বক্তব্য নয়, কাজের মাধ্যমে ফলাফল দেখাতে চান। এ জন্য তিনি বলেন, ‘আমি সাউন্ড বাইট দিচ্ছি না, ইনশাআল্লাহ কাজ করে দেখাব।’

বাজারে কিছু পণ্যের দাম বাড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি অনেক ক্ষেত্রে এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির কারণে হয়। সাধারণত পুরো মাসের বাজার একসঙ্গে করে, ফলে ভোগের প্রয়োজন বাড়ে, এবং এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ে। তবে বলে থাকেন, এই চাহিদা বৃদ্ধির প্রভাব খুব বেশি সময় স্থায়ী হয় না।

বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো অনিশ্চয়তা থাকলে বিনিয়োগ অনিরাপদ হয়। স্থিতিশীল পরিবেশ ছাড়া বিনিয়োগ আসবে না। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা থাকলে বিনিয়োগকারীরা তাদের পুঁজি ও শ্রমের জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি প্রত্যাশা করে। তিনি আরও জানান, দেশে বড় সংখ্যক জনশক্তি রয়েছে, প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। পুরনো বিনিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকায় দেশের জন্য বড় চাপে পড়েছে, এবং এই পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হবে।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় রমজান শুরু হওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তিনি। তিনি বলছেন, রমজান কার্যক্রম সুসম্পন্ন করতে হলে সরকারকে সফল হতে হবে। দেশের স্বার্থে কাজ করতে গিয়ে সবাই একত্রে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি বলেন, এটি ব্যক্তিগত নয়, দেশের স্বার্থের বিষয়। এই কাজে সকলের সহযোগিতা চান, যদি কোথাও ভুল হয় তখন তা ধার করে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন, মিলেঝুলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।