বুধবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জিম্বাবুয়ে উপর দিয়ে গেলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ, রেকর্ড জয়

আত্মবিশ্বাসে ভরপুর ছিলো জিম্বাবুয়ের দল। তারা জানতে পেরেছে যে, গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়া এবং শ্রীলঙ্কার মতো শক্তিশালী দলদের হারিয়ে সুপার এইটে উঠেছে। এই তরফ থেকে আত্মবিশ্বাসের কমতি ছিলো না। অন্যদিকে, তাদের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজও পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলো। কারণ, গ্রুপ পর্বে তারা সকল ম্যাচই জিতেছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা ভেবেছিলো, গ্রুপের এই দুই অপরাজিত দলের মুখোমুখি লড়াই হবে খুবই জমজমাট। কিন্তু দেখা গেলো পুরো ম্যাচটাই একপেশে, যা প্রত্যাশার সম্পূর্ণ ব্যত্যয়। প্রথমে ব্যাটিং করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশাল সংগ্রহ দ্বার করলো, যার চাপ পড়ে জিম্বাবুয়ের ওপর। ২৫৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা জিম্বাবুয়ে মাত্র ১৪৭ রানে অলআউট হয়ে যায়, এবং সেখানেই শেষ হয়ে যায় তাদের আশা-ভরসা। ফলে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ বড় ব্যবধানে ১০৭ রানে জয় পায়।

শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে যায় জিম্বাবুয়ে। দলীয় পঞ্চাশের আগেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। এরপর ডিওন মেয়ার্স ২৮ এবং সিকান্দার রাজা ২৭ রান করে দলের কিছুটা পরিস্থিতি রুখে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। তবে অন্যদিকে উইকেটের পতন থামছিলো না, এবং তাদের আর ম্যাচে ফিরে আসার সুযোগ ছিলো না। শেষ দিকে ব্র্যাড ইভান্স ২১ বলে ৪৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলের সংগ্রহ ১৪৭ পর্যন্ত নিয়ে যান।

জিম্বাবুয়ের ইনিংসে বেশ ধস নামায় গুরাকেশ মোতি ও আকিল হোসাইন। দুজনেই তুলে নেন মোট ৭ উইকেট, যেখানে মোতির ২৮ রানে ৪ উইকেট, হোসাইনের ৩ উইকেট ২৭ রানে। পাশাপাশি, ম্যাথু ফোর্ড ২৭ রানে ২ উইকেট নেন, এবং জেসন হোল্ডার একটি উইকেট পান। এই ম্যাচে এই জুটি নিয়েই গ্রুপ ওয়ান সুপার এইটের এক ম্যাচে জয় পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, এবং আগের ম্যাচে সাউথ আফ্রিকাও জয়ী হয়।

অধিনায়ক সিকান্দার রাজার সিদ্ধান্তে টস জিতে প্রথম বোলিং করার মাধ্যমে শুরু হয় ম্যাচের। রিচার্ড এনগারাভা শুরুতে ব্র্যান্ডন কিংকে আউট করেন, যিনি ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। এরপর শাই হোপ ও হেটমায়ার দলের ধাক্কা সামাল দেন। হোপ ১২ বলে ১৪ রান করে আউট হন, তার পরে হেটমায়ার ও পাওয়েল মিলে ১২২ রানের দারুণ জুটি গড়েন। এই জুটির সুবাদে বড় সংগ্রহের ভিত তৈরি হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের। হেটমায়ারকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙ্গেন গ্রায়েম ক্রেমার, যা হারানো সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলে। তিনি ৭ ছক্কা ও ৭ চারে ৩৪ বলের ঝড়ো ইনিংস খেলে ৮৫ রান করেন। পাওয়েলও শেষ পর্যন্ত টিকে যান নয়, ৩৫ বলে ৫৯ রান করে আউট হন।

এরপর শেরফানে রাদারফোর্ড ১৩ বলে ৩২ রান করে অপরাজিত থাকেন, জেসন হোল্ডার ৪ বলে ১৩ রান করে আউট হন। ম্যাথিউ ফোর্ডও ১ বলে ১ রান করে অবিচ্ছিন্ন থাকেন। এই কার্যক্রমের মধ্যে, ক্যারিবীয় এই ক্রিকেটাররা তাদের ইনিংস বেশ সুন্দরভাবে পরিচালনা করে, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।