শুক্রবার, ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এনসিপির পরিকল্পনা: স্থানীয় নির্বাচন এককভাবে করার প্রস্তুতি, জোটের দরজা খোলা থাকছে

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজস্ব উদ্যোগে প্রার্থী ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে শেষ মুহূর্তে প্রয়োজন হলে দলটি জোটের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেবে বলেও ইঙ্গিত দেয় তারা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান দলটির নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম জানিয়ে বলেন, দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভায় দলীয়ভাবে প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। ঈদের পর থেকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গুরুত্বপূর্ণ এরিয়া ও অঞ্চলগুলোতে গিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার ও যাচাই-বাছাই শুরু করবে। বর্তমানে দলটি এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ১১-দলীয় জোট যদি ঐকমত্যে আসে, তবে সে সিদ্ধান্ত শেষ মুহূর্তে বিবেচনা করা হবে।

সারজিস আলম বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিটি এলাকায় প্রার্থীতা ঘোষণা করা। আপাতত দলটির সিদ্ধান্ত এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায়। তবে শেষ মুহূর্তে সকলের সঙ্গে বসে বৃহৎ স্বার্থের জন্য সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নেয়ার মনোভাব রয়েছে। তিনি আশা ব্যক্ত করেন, সংগঠনের মধ্যে কোনো বিভাজন হবে না।

দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, এ বছর আইন অনুযায়ী নির্বাচনে দলীয় মার্কা বা মনোনয়ন থাকবে না। সবাই ব্যক্তিগতভাবে প্রার্থী হবেন। আমাদের জাতীয় নাগরিক পার্টি কিছু নির্দিষ্ট প্রার্থীর সঙ্গে দলীয় সমন্বয় করবে, যা নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ঠিক করবে।

সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের স্থানীয় প্রশাসনে পদক্ষেপ গ্রহণ ও প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার আগ্রহী ব্যক্তিদের যোগাযোগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সারজিস আলম উল্লেখ করেন, এর আগে সম্পন্ন একান্ত প্রস্তুতি ও জোটগত প্রক্রিয়ার কারণে শেষ মুহূর্তে অনেক কিছু ঠিকভাবে করতে পারেনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগেভাগেই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দলটি।

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়ে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রজ্ঞাপনে মেয়াদের উল্লেখ না থাকায় স্বচ্ছতা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে। এর ফলে, ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে এবং নির্বাচন আয়োজনের সময়ও অতিক্রান্ত। দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের জন্য সময়সূচি ঘোষণা করার দাবি জানান তিনি।

নেতৃবৃন্দ পুলিশি অভিযান ও সাংবাদিক আক্রমণের ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, যেকোনো যৌক্তিক আন্দোলন ও মতপ্রকাশের অধিকার সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত, যা ক্ষুণ্ণ হলে তা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।

সংবাদ সম্মেলনের পূর্বে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ, আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, তাহসীন রিয়াজ ও মঞ্জিলা ঝুমা।