রবিবার, ৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নিউজিল্যান্ড সিরিজেই বাংলাদেশ দলে ফেরার আশা সাকিবের

দেশে না থাকলেও বাংলাদেশের ক্রিকেটি আলোচনা থেকে সাকিব আল হাসান দূরে নেই। দীর্ঘদিন ধরে তার জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন নিয়ে গুঞ্জন চলছে—কীভাবে ও কখন ফেরানো হবে, তা নিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, বিসিবির উচ্চপদস্থরা এবং এমনকি কয়েকজন বর্তমান ক্রিকেটারও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ইতোমধ্যেই বলেছেন, সাকিবের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার দলে থাকলে অধিনায়ক হিসেবে কাজ অনেক সহজ হয়।

আলোচনায় ছিল আসন্ন ঘরের পাকিস্তান সিরিজেও সাকিবকে জায়গা করে দেওয়া হবে কি না। তবে পাকিস্তান সিরিজের জন্য বিসিবি ইতোমধ্যে দল ঘোষণা করায় সেখানে সাকিবের নাম নেই। মূলত তার বিরুদ্ধে চলমান আইনি বিচ্যুতি ও দেশে ফেরার ব্যবস্থায় কোনো অগ্রগতি না থাকায় তিনি ফিরে আসতে পারেননি। ফলে পাকিস্তান সিরিজ খেলার সুযো҆গও হাতছাড়া হলো এবং অপেক্ষা আরও বাড়ল।

তবুও আগামী মাসে নিউজিল্যান্ড সিরিজ দিয়েই জাতীয় দলে ফিরতে আগ্রহী সাকিব—এমন আশাই প্রকাশ করেছেন তিনি নিজে। ঢাকা পোস্টকে পাঠানো একটি সংক্ষিপ্ত বার্তায় সাকিব বলেছে যে তিনি নিউজিল্যান্ড সিরিজে খেলবার প্রত্যাশা রেখেছেন এবং নিজের ফিটনেস ধরে রাখতে নিয়মিত ও কঠোর অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিসিবির দিক থেকে বিষয়টির চেষ্টাও চলছে—এমনটি আগে থেকেই জানান দিয়েছেন বোর্ড পরিচালক আসিফ আকবর। গত ৪ মার্চ কক্সবাজার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সাকিবের কাজ চলছে। বিসিবির তরফ থেকে জিনিসটা চলে গেছে মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয় কাজ করছে, সাথে আমাদের লিগ্যাল টিমও কাজ করছে।” তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “সাকিবের যে আইনগত জটিলতাগুলো ছিল, সেগুলো মন্ত্রণালয় ও বিসিবি একসঙ্গে কাজ করে সমাধানের চেষ্টা করছে। আমরা খুবই আশাবাদী, দ্রুত সময়ে সাকিবকে দেশের ক্রিকেটে দেখতে পাবো। আমরা সবাই—আপনারা, সাকিবভক্তরা, সারাবাংলাই—অপেক্ষায় রয়েছি।”

স্মরণীয়, সাকিব সর্বশেষ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ২০২৪ সালে। এরপর তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার কারণে দেশে ফিরতে পারেননি। একবার দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে দুবাইও এসেছিলেন তিনি, কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ফেরত আসা হয়নি। বর্তমানে মামলার অগ্রগতি ও নিয়মকানুন মেনে ফেরার ব্যবস্থাই তার ফিরে আসার প্রধান বাধা হিসেবে থেকে যাচ্ছে।

বিতর্ক ও প্রতিকূলতার মধ্যেও ফিটনেস বজায় রেখে অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণায় সাকিবের অনুরাগীরা নতুন করে প্রত্যাশা জাগিয়েছেন। তবে তার সম্পূর্ণ প্রত্যাবর্তন কবে বাস্তবে হবে, তা নির্ভর করছে আইনি ও প্রশাসনিক বিষয়গুলোর দ্রুত সমাধানের ওপর।