সোমবার, ৯ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

খুলনায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত

উদ্বোধন অনুষ্ঠান, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রবিবার (০৮ মার্চ) খুলনায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়েছে। খুলনা জেলা প্রশাসন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও জাতীয় মহিলা সংস্থা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় এ আয়োজন করে।

‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ।

প্রধান অতিথি সভায় বলেন, নারীদের প্রতি অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। নারীপ্রতিপক্ষ অসমতা পুরুষদের মতো নয়, বরং তাদের সঙ্গে সম্পর্কিত বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন। একজন নারীকে মা, বোন বা স্ত্রী হিসেবে সীমাবদ্ধ করে দেখলে তার মানুষ হিসেবে মর্যাদা উঠে যায়—তাই আমাদের প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে নারীকে মানুষ হিসেবে সম্মান করা। তিনি আরও বলেন নারীর বৈষম্য কাটাতে তাদের শ্রম ও অবদানের সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন; সহানুভূতি নয়, তাদের সম্পূর্ণ অধিকার সুনিশ্চিত করাই আমাদের কর্তব্য। একই সঙ্গে প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে নারী কর্মীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার জন্য কমফোর্ট রুমসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা রাখা জরুরি, এতে তারা ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক দায়িত্ব দুটোই ভালভাবে পালন করতে পারবেন।

অনুষ্ঠনটি খুলনা জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকারের সভাপতিত্বে পরিচালিত হয়। অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মাসাসের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট শামীমা সুলতানা শিলু। মহিলা বিষয়ক দপ্তরের উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সুরাইয়া সিদ্দীকা স্বাগত বক্তব্য দেন। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও নারী সংগঠনের প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রধান অতিথি খুলনা কালেক্টরেট চত্বরের উদ্বোধন করেন। সকালেই বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ নেতৃত্বে শহরের শহিদ হাদিস পার্ক থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কালেক্টরেট প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় নারী সংগঠনসহ সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

আয়োজকরা বলেন, নারী-উন্নয়ন ও সমঅধিকারের লক্ষ্যে এমন আলোচনা ও সচেতনতার কর্মসূচি নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি তারা দিচ্ছেন, যাতে সমাজে নারীর অধিকার সুরক্ষিত ও বিরূপ বৈষম্য দূর করা সম্ভব হয়।