বুধবার, ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জুলাই সনদের সুবিধাভোগী হয়ে সরকার গঠন করে এখন উল্টো পথে হাঁটছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সুবিধাভোগী হয়ে যারা সরকারি দলে যোগ দিয়ে সরকার গঠন করেছিলেন, তারা এখন অপ্রত্যাশিতভাবে পিছুხাড়া করে যাচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে জুলাই সনদ, সংবিধান সংস্কার এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয়ে ষড়যন্ত্র চলছে।

আজ (বুধবার) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আয়োজিত ‘‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অনীহা: উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ’’ শীর্ষক গোলটেবিলে এসব কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, গণভোটে প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়লাভ করে—প্রায় পাঁচ কোটির মতো মানুষ এর পক্ষে ভোট দিয়েছে। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী ৫০ শতাংশের বেশি পেলে সেটি গণরায়ের মর্যাদা পায়; তবু বিএনপি তা উপেক্ষা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ এখনও সম্ভব। ৫ আগস্ট থেকে যে শিক্ষা নেওয়া উচিত—জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যারা অবিচার করবেন, তাদের সেই শিক্ষা হতে হবে—তাও তিনি বারবার জোর দিয়েছেন। তিনি নতুন প্রজন্মের মধ্যে Julio সনদের প্রতি সিরিয়াস মনোভাব থাকার কথা উল্লেখ করে সংগঠনের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান করেন।

আইনমন্ত্রী নিয়ে তার অভিযোগও ছিল। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার আদেশ বাস্তবায়ন না-করায় ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না-গ্রহণ সম্পর্কে যে আইনি ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, সেটি কেন আইনমন্ত্রীর তরফ থেকে নেই। তিনি বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন আইনি যুক্তি দিচ্ছেন, কিন্তু এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করা আইনমন্ত্রীর কাজ—তাই তিনি নীরব কেমন করে থাকতে পারেন, তা জানা নেই।

তিনি সাবজুডিসের আড়ালে জাতীয় সংসদে জুলাই সনদের আলোচনা সচেতনভাবে দীর্ঘ করে দেয়ার চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করেছে। সাবজুডিসের নাম করে বিষয়টিকে টালবাহানা করা হচ্ছে এবং সংখ্যার জোরে পার্লামেন্টে এই আলোচনাকে দীর্ঘায়িত করে এটা একটি পরিকল্পিত কৌশল হিসেবে জনগণের সামনে আনা হচ্ছে, বলেন তিনি।

শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার বিএনপির সংসদ সদস্যদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করে জুলাই সনদে উল্লিখিত প্রতিটি ঐকমত্য বাস্তবায়নে এগিয়ে আসুন। ওই সনদের যে আকাঙ্ক্ষা রক্তের বিনিময়ে গড়া, সেটি বাস্তবায়ন করতে তাদের ভূমিকা অপরিহার্য—এই আশায় তিনি বক্তৃতা শেষ করেন।