বৃহস্পতিবার, ১২ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাষ্ট্রপতির ভাষণ কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী দলের দ্বন্দ্ব

আগামীকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী এই অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দান করার কথা থাকলেও সেটি নিয়েই সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র টানাপোড়েন দেখা যাচ্ছে। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দাবি করে বলেছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তাঁকে ভাষণ দেওয়ার অধিকার থাকা উচিত নয় এবং তাঁকে ভাষণদানে বিরত রাখা উচিত।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিএনপি বলছে, নিয়মই নির্দেশ করে রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেবেন। বুধবার সংসদ ভবন ত্যাগের সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, ‘রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদে ভাষণ দেবেন।’ তিনি আরও বলেন, আগামীকাল বেলা ১১টায় অধিবেশন বসবে এবং ওই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচন হয়ে তাদের শপথ করানো হবে, যা রাষ্ট্রপতি করবেন।

এদিকে সরকারি দলের সংসদীয় দলের বৈঠকও আজ জাতীয় সংসদ ভবনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে; সভায় সভাপতিত্ব করেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকটি আগামীকাল শুরু হতে যাওয়া অধিবেশনকে সামনে রেখে আয়োজন করা হয়েছিল এবং সেসময় নানা প্রস্তুতি ও কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বিরোধী দলের এমপিরাও দুপুরে পৃথক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকের পর জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিস্টদের দোসর; সংসদে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার অধিকার নেই।’ তিনি জানান, আগামীকাল যে সংসদ বসবে সেখানে বিরোধীদের ভূমিকা কী হবে, সে সম্পর্কে বৈঠকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক অনেক নতুন সংসদ সদস্যকে দেখিয়ে তাঁরা সংসদের মান ও চরিত্র নিয়ে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন।

ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়; প্রস্তাব আসলে তাদের অবস্থান প্রকাশ করা হবে—তাহের বলেন, ‘এ বিষয়গুলো কালকে খোলাসা করা হবে।’

সংক্ষেপে বলা যায়, রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিক আক্রমণপ্রত্যাশা তীব্র হয়েছে; সরকার নিয়ম মেনে চলার ওপর জোর দিচ্ছে, আর বিরোধীরা ভাষণদানকে অবৈধ বলে আখ্যা দিয়ে विरोधের সংকেত দিচ্ছে। পরিস্থিতি পরিষ্কার হবে আগামীকালের অধিবেশনে।