সোমবার, ১৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

খেলাপি ঋণ দ্রুত আদায়ের জন্য মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের নির্দেশ দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত ও কার্যকরভাবে সমাধান করার লক্ষ্যে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে দক্ষ মধ্যস্থতাকারী (মেডিয়েটর) নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুধবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে বলেছে, আদালতে মামলা করার আগে ‘প্রাক-মামলা মধ্যস্থতা’ পদ্ধতির মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিকে উৎসাহিত করতে হবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিকল্প বিরোধাবিধি (এডিআর) পদ্ধতির মাধ্যমে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে মোট খেলাপি ঋণের অন্তত ১ শতাংশ নিষ্পত্তি করতে হবে। ব্যাংক খাতে তারল্য ও আর্থিক স্থিতি রক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে অনাদেয় ঋণের পরিমাণকে ঘিরে সমস্যা থাকায় সার্কুলারটি জাতীয় পর্যায়ে ঋণ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নতুন নীতিমালা ২০২৪ সালের ২২ মে জারি করা বিএরপিডি সার্কুলার নং-১১-এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে, তবে এবারে আদালতে মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আরও বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারী নির্বাচন করতে হবে আইন অনুযায়ী গঠিত বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্যানেল থেকে।

প্যানেলে সাধারণত অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা থাকবেন। সার্কুলারে মধ্যস্থতাকারী নির্বাচনের জন্য ১০টি যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে প্যানেল সদস্যপদ যাচাই, নিরপেক্ষতা, পেশাগত সুনাম, বিশেষজ্ঞ দক্ষতা, মধ্যস্থতা সংক্রান্ত জ্ঞান, প্রমাণিত অভিজ্ঞতা, পরিষ্কার আইনগত রেকর্ড, আর্থিক সততা, খেলাপি না থাকা ও পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা।

মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে কঠোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে হলফনামা ও অঙ্গীকারপত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের এডিআর সুবিধা সম্পর্কে সচেতন করতে ও মোবাইলে, শাখাভিত্তিক বিজ্ঞপ্তি ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তথ্য দিতে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, আদালতের বাইরের দ্রুত সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল আইনি প্রক্রিয়ার বিকল্প একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। এতে না sólo মামলার জট কমবে, বরং ব্যাংকের ликুইডিটি ও সমগ্র আর্থিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।