ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের হয়ে পিএসএলের অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) কলকাতা নাইট রাইডার্সে যোগ দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। জিও সুপার জানায়, দেরিতে নাম প্রত্যাহারের জন্য মুজারাবানির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আছে।
পিএসএলের এগারোতম আসরের জন্য ইসলামাবাদ ইউনাইটেড মুজারাবানিকে ১ কোটি ১০ লাখ পাকিস্তানি রুপিতে দলে নিয়েছিল। টুর্নামেন্টের শুরুর দিন ধার্য ছিল ২৬ মার্চ। তার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে কলকাতার প্রস্তাবে ইসলামাবাদের সঙ্গে থাকা চুক্তি ভঙ্গ করে আইপিএলে খেলার সিদ্ধান্ত নেন জিম্বাবুয়ের পেসার।
কলকাতা নাইট রাইডার্স তাকে মূলত বাঁ-হাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের বদলি হিসেবে নিয়েছে। বিসিসিআইয়ের নির্দেশে মোস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেওয়ার পর তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা মুজারাবানির সঙ্গে চুক্তি করেছে—এই তথ্যও কলকাতা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে।
পিসিবি সূত্রে বলা হচ্ছে, পিএসএল থেকে শেষ মুহূর্তে সরে যাওয়া নতুন ঘটনা নয়, কিন্তু সংগঠনের কাছে এ ধরনের আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও সমস্যা তৈরি করে। গত বছরও একই ধরনের ঘটনার উদাহরণ ছিল—দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার করবিন বশ পেশোয়ার জালমির হয়ে নির্বাচিত হওয়ার পর চুক্তি বাতিল করে আইপিএলের মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে যোগ দেন এবং তাকে এক বছর পিএসএল থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মুজারাবানি বল হাতে দারুন ছন্দে ছিলেন। ১৩ উইকেট নিয়ে তিনি যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন এবং জিম্বাবুয়েকে সুপার এইটে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার এই পেসারের বাউন্স ও নির্ধারণী সময়ে উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা তাকে টি-টোয়েন্টিতে তুলনীয় করে তুলেছে।
অবশেষে জিম্বাবুয়ের জার্সিতে মুজারাবানি ৮৯টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন; ৮৬ ইনিংসে বল হাতে তার শিকার ১০৬ উইকেট এবং ওভারপ্রতি খরচ করেছেন গড়ে ৭.২৪ রান। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তার অভিজ্ঞতা ও গতিবেগ কলকাতার পেস আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করবে।
ঘটনাটির সূত্রে পিসিবি কী উদ্যোগ নেবে এবং কবে তা জানাবে—এটাই এখন ক্রীড়া পেশাদারদের এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণের বিষয়।





